সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি; স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশনে (এসআইআর) আধার কার্ডই প্রামাণ্য নথি! এবার সেই আধার কার্ড দিয়ে ‘অনলাইনে’ আবেদন করতে পারবেন বিহারের খসড়া ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নাগরিকরা। শুক্রবার এমনই নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। তবে আগের মতো বুথ লেভেল অফিসারের (বিএলও) কাছে গিয়ে নাম তোলার আবেদনের বিষয়টিও বন্ধ করা হচ্ছে না। অর্থাৎ, অনলাইন ও অফলাইন দুই প্রক্রিয়াই সমান্তরালে চলবে। এছাড়া কমিশনের বলা ১১ টি নথির যে কোনও একটি যেমন জমা দেওয়ার সুযোগ ছিল, সেটিও বজায় থাকছে। আবেদনপত্র গ্রহণের প্রমাণ হিসেবে আবেদনকারীকে ‘অ্যাকনলেজমেন্ট’ বা রসিদ দেবে নির্বাচন কমিশন। যদিও তাতে যে আবেদন নিখুঁত এবং চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম উঠেই যাবে, এমনটা নয়। আবেদন খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রকৃত ভোটার কি না, যাচাই করবে কমিশন। ১ সেপ্টেম্বর বিহারে প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। তার আগে পর্যন্ত নাম তোলার বা ভুয়ো ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার আবেদন জানানো যাবে। বিহারের এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ৬৫ লক্ষ নাম। তাঁদের তরফে এদিন আবেদনের সময়সীমা বৃদ্ধির আবেদন জানানো হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। কিন্তু বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চ তাতে অনুমোদন দেয়নি।
উল্টে এসআইআর নিয়ে আপত্তি তোলা রাজনৈতিক দলগুলির উদ্দেশে তোপ দেগেছে শীর্ষ আদালত। দুই বিচারপতিই বলেছেন, বিহারে প্রতিষ্ঠিত ১২টি রাজনৈতিক দলের ১ লক্ষ ৬০ হাজার ৮১৩ জন বুথ লেভেল এজেন্ট (বিএলএ) রয়েছেন। তাঁরা কেন নাম বাদ পড়া নাগরিকদের সাহায্য করছেন না? এজেন্টরা তো এলাকার লোককে চিনবেন। ফলে তাঁরা প্রতিদিন ১০টি করে বাদ পড়া নামের তালিকা পরীক্ষা করলেই তো কাজ সহজ হয়। তাশুনেই নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী বলেন, ‘অহেতুক অনেক ভুয়ো গল্প ছড়ানো হচ্ছে। এতদিনে মাত্র দু’টি অভিযোগ জমা পড়েছে। সেটাও সিপিআইএমএলের তরফে। আমরা আশ্বাস দিচ্ছি, প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ যাবে না। একবার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ তো হতে দিন।’
মামলার মূল আবেদনকারী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফমর্স। তাদের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ শীর্ষ আদালতে বলেন, ‘অনেক পরিযায়ী শ্রমিকের নাম পড়েছে। যারা আগামী ১ সেপেটম্বরের মধ্যে বিহারে ফিরে যেতে পারবে না। তাদের কী হবে?’ তখনই আদালত অনলাইন সুবিধার কথা জানায়। এর মধ্যেই এদিন কমিশন বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ১৮ বছর বয়স হতে চলা নাগরিকদের আবেদনের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। এদিন পর্যন্ত ২ লক্ষ ৬৩ হাজার ২৫৭ আবেদন জমা পড়েছে। বাতিল ভোটারদের নাম তোলা বা নাম কাটানোর জন্য আবেদন জমা পড়েছে ৮৪ হাজার ৩০৫টি। এর মধ্যে ৬ হাজার ৯২টি ক্ষেত্রে নিষ্পত্তিও হয়ে গিয়েছে। যদিও সেই নিষ্পত্তির ফল কী, স্পষ্ট করেনি কমিশন। ১ সেপ্টেম্বর ভোটার তালিকা প্রকাশ হলেই তা জানা যাবে। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি।