


পুনে: সারাদিন মোবাইলে চোখ। তার প্রভাব পড়ছে শরীর, মন, মস্তিষ্কে। উপায় একটাই ‘ডিজিটাল ডিটক্স’। অর্থাৎ দিনের মধ্যে অন্তত কয়েকঘণ্টা সবরকমের ডিজিটাল যন্ত্র থেকে দূরে থাকা।। চিকিৎসকরাও অনেকসময় এমন পরামর্শ দেন। কিন্তু চেষ্টা করেও এমনটা করতে পারছেন না অনেকে। বড়রা তো বটেই, তালিকায় রয়েছে খুদেরা। এদের কথা ভেবেই ‘ডিজিটাল ডিটক্সের’ উপায় খুঁজে বার করেছেন পুনের গৌতম বৈষ্ণব। পাথরে পাথর সাজানোর নেশায় সবাইকে মজিয়েছেন তিনি। আর তাতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল ছাড়া কাটিয়ে ফেলছেন যে কেউ। ব্যাপারটা নতুন কিছু নয়। বিদেশে এই ‘রক ব্যালান্সিং’ বেশ জনপ্রিয়। গৌতমের হাত ধরে ভারতেও চর্চা শুরু হয়েছে এই নিয়ে।
পার্কে, নদীর ধারে, কখনও রাস্তা থেকে পাথর কুড়িয়ে শিল্প গড়েন গৌতম। স্রেফ মাধ্যাকর্ষণের জেরেই এমনটা হয়। বুঝতে হবে পাথরের কোন অংশের উপর বসালে আর একটা পাথর স্থির থাকবে। দেখে মনে হবে, যেন আঠা দিয়ে আটকানো। তাঁর কথায়, ‘পাথরের উপর পাথর সাজানো এমন কঠিন কিছু নয়। ধৈর্য আর একাগ্রতা থাকলেই সম্ভব।’ কিন্তু ডিজিটাল যুগে সবথেকে বেশি অভাব এই মনযোগের। সোশ্যাল মিডিয়ার হাতছানি উপেক্ষা করে কয়েক ঘণ্টা বই পড়তেও রীতিমতো বেগ পেতে হয় অনেককে। তাই পাথরে পাথর সাজানোর কাজ বেশ কঠিন মনে হতে পারে প্রথম দিকে। গৌতম নিজেও বহু চেষ্টার পর দক্ষতা অর্জন করেছেন। এখন পাথর সাজিয়ে তোলার এই কাজে সময় কীভাবে পেরিয়ে যায়, তা বুঝতেও পারা যায় না বলে দাবি তাঁর।
বিভিন্ন স্কুলে এই নিয়ে ওয়ার্কশপ করাতে যান গৌতম। পড়ুয়ারা বেশ আগ্রহভরে বিষয়টা উপভোগ করে বলেই জানিয়েছেন তিনি। কোনও ডিজিটাল যন্ত্রের সাহায্য ছাড়াই এভাবে সকলকে মাতিয়ে রাখেন গৌতম। বড়রাও সহজে ‘ডিজিটাল ডিটক্সে’র পথ খুঁজতে গৌতমের কাছে আসেন। অনেকে বেশ উপকৃত হয়েছেন বলেও দাবি তাঁর। আগামী দিনে অন্যান্য দেশের মতো ভারতেও রক ব্যালান্সিং জনপ্রিয় হবে বলে মনে করছেন তিনি।