Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিনোদন

শৈশব ফিরে পাওয়ার গল্প

প্রথমবার একসঙ্গে কাজ করলেন বিক্রম চট্টোপাধ্যায় এবং দেবলীনা কুমার। তাঁদের আসন্ন ছবি ‘রাস’। সেই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন দুই শিল্পী।

শৈশব ফিরে পাওয়ার গল্প
  • ৩১ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রথমবার একসঙ্গে কাজ করলেন বিক্রম চট্টোপাধ্যায় এবং দেবলীনা কুমার। তাঁদের আসন্ন ছবি ‘রাস’। সেই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন দুই শিল্পী।

Advertisement

‘রাস’ কতটা স্মৃতিমেদুর করল?
বিক্রম: ‘রাস’ বাঙালিদের বেড়ে ওঠার গল্প। মাঠে কাদা মেখে ফুটবল খেলা, পুকুরে স্নান করে বাড়ি ফেরা, মা মারলে, বকলে কাকিমা-জেঠিমাদের বাঁচানো, নাড়ু-পিঠে বানানোর উৎসব, লোডশেডিং হয়ে গেলে ছাদে বসে আড্ডা মারা— এগুলো হারিয়ে গিয়েছে। প্রত্যেক মুহূর্তে ছুটতে ছুটতে ওই একান্নবর্তী জীবনটাকে কোথায় যে হারিয়ে গেল...!
দেবলীনা: আমি নিউক্লিয়ার পরিবারে বড় হয়েছি। তাতে আমার কোনও আক্ষেপ নেই। আমাদের পাড়াটাই একটা বৃহত্তর পরিবার। আমার বিয়ের সময় যাবতীয় নিয়ম পাড়ার কাকিমারা করেছিলেন। ছবিতে ঠিক এই জিনিসটাই আছে। ‘রাস’-এ আমার চরিত্রের নাম রাই। সুযোগ থাকলেও গ্রামেই থেকে গিয়েছে। আমার সঙ্গে অনেকক্ষেত্রে মিল আছে রাইয়ের। 
বিক্রম আপনার চরিত্র কেমন?
বিক্রম: আমার চরিত্র সোমনাথ। ছোটবেলায় বাবার হাত ধরে শহরে চলে আসে। এবার কর্মসূত্রে বিদেশ চলে যাবে। তার আগে কয়েকটা দিনের জন্য সে দেশের বাড়িতে ফিরেছে। সেখানে বত্রিশ জনের সংসার, ওর ছোটবেলার বন্ধু রাই। ফেলে যাওয়া শৈশব ফিরে পাওয়া, যাপন করার গল্প ‘রাস’। 
একান্নবর্তী পরিবারের শ্যুটিং কীভাবে হল?
বিক্রম: আমাদের আলাদা কোনও মেকআপ রুম ছিল না। হাওড়ার একটা বাড়ির একটা বড় ঘর ছিল মহিলা শিল্পীদের জন্য, আর একটা পুরুষদের জন্য। আমরা সবাই হয় মাঠে, না হয় উঠোনে আড্ডা দিতাম।
দেবলীনা: রবীন্দ্রজয়ন্তীর শ্যুটিংয়ে তো একশোর উপর আর্টিস্ট ছিলেন। আর ভ্যালেন্টাইন ডে’র দিন শ্যুটিংয়ে হঠাৎ শুনলাম দু’জন জুনিয়র আর্টিস্ট বিয়ে করে চলে এসেছেন। আমরা সব দুদ্দাড় করে ছুটলাম ওঁদের দেখতে! ওদের নিয়েই সেদিন মেতে গেলাম আমরা।
এই ছবি থেকে নতুন প্রাপ্তি কী হল?
দেবলীনা: আমার পরিবারে অভিনয়ের কোনও পরম্পরা ছিল না। এর আগে থিয়েটার করেছি। কিন্তু সিনেমা আলাদা। সবসময় চাইতাম, এমন একজন পরিচালকের সঙ্গে কাজ করব, যিনি আমায় সবকিছু শিখিয়ে দেবেন। তথাগত মুখোপাধ্যায়ের কাছ থেকে আমি সেটা পেয়েছি। 
বিক্রম: আমি আবার একটা নতুন ইমেজ পেলাম। আগের অ্যাকশন প্যাক্ট ইমেজ ভেঙে গম্ভীর, ম্যাচিওর একজন যুবকের চরিত্রে অভিনয় করলাম।
ছোটপর্দা হোক বা বড়পর্দা, একান্নবর্তী পরিবারের গল্প বারবার ফিরে আসছে কেন?
বিক্রম: আমরা ক্রমাগত ভেঙে যাচ্ছি...
দেবলীনা: (বিক্রমের কথার মাঝেই বললেন) আমরা আগের সব কিছু আঁকড়ে ধরতে চাই। আমরাই মনে হয় শেষ প্রজন্ম এই একান্নবর্তী পরিবারের স্মৃতিমেদুরতাকে পর্দায় প্রতিফলিত করে যাচ্ছি। এর পরের প্রজন্ম তো জানবেই না, একসঙ্গে থাকা মানে কী!
প্রিয়ব্রত দত্ত

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ