


মুম্বই ও নয়াদিল্লি: মহম্মদ তৌফিক। ‘ছোটু চাওয়ালা’ নামেই এলাকায় বেশি পরিচিত। মুম্বই হামলার সেই ভয়াবহ সন্ধ্যায় দক্ষিণ মুম্বইয়ে ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাসের বাইরে নিজের চায়ের স্টলে ব্যস্ত ছিলেন। আচমকা গোলাগুলির শব্দ।চোখের সামনে বহু মানুষকে লুটিয়ে পড়তে দেখেন। জঙ্গি হামলা হয়েছে বুঝে আর সময় নষ্ট করেনি তৌফিক। অনেককেই পথ দেখিয়ে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যান। তাঁর উপস্থিত বুদ্ধিতেই অনেকের প্রাণরক্ষা হয়েছিল। সেই তৌফিকের দাবি, আজমল কাসবের মতো বিরিয়ানি খাইয়ে তাহাউর রানাকে ‘জামাই আদরে’র দরকার নেই! শুধু তাই নয়, সন্ত্রাসবাদীদের জন্য আরও কঠোর আইনের দাবিও তোলেন ‘ছোটু চাওয়ালা’। তাঁর বক্তব্য, দু’তিন মাসের মধ্যেই জঙ্গিদের ফাঁসিতে ঝোলানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
জেলে কাসবকে মাটন বিরিয়ানি খাওয়ার অভিযোগ তুলে তৎকালীন শাসকদল কংগ্রেসকে এদিন বিঁধেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল সহ বিজেপির বহু শীর্ষ নেতা। যদিও ২০১৫ সালে ওই দাবির সত্যতা খারিজ করে দিয়েছিলেন কাসব মামলার বিশেষ সরকারি আইনজীবী উজ্জ্বল নিকম। তিনি জানিয়েছিলেন, কাসব কখনও জেলে বিরিয়ানি খেতে চায়নি। তাকে বিরিয়ানি দেওয়াও হয়নি। জঙ্গির প্রতি সহানুভূতি তৈরি হচ্ছে দেখে তিনি ওই কাহিনি বানিয়েছিলেন। এরইমধ্যে কাসবের মতো এবার রানার ফাঁসির দাবিতে সুর চড়িয়েছেন শিবসেনা (উদ্ধব) সাংসদ প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী।
২৬/১১ মুম্বই হামলায় শহিদ এনএসজি কমান্ডার মেজর সন্দীপ উন্নিকৃষ্ণনের বাবা কে উন্নিকৃষ্ণন এদিন বলেন, নিজের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ছেলের প্রাণ গিয়েছিল। রানার প্রত্যর্পণ কূটনৈতিক সাফল্য। মুম্বই হামলায় জঙ্গিদের গুলি এসে বিঁধেছিল সাত বছরের দেবিকা নটোবরলাল রোটাওয়ানের। কিন্তু তা সত্ত্বেও এতটুক ভয় না পেয়ে কাসবকে শনাক্তকারী গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর ভূমিকা পালন করেছিল। সেই দেবিকা এদিন দাবি করেন, দাউদ ইব্রাহিম সহ অন্যান্য জঙ্গিদের এবার পাকিস্তান থেকে ভারতে আনার ব্যবস্থা করা হোক।