Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

‘ছিটকে এসে পড়ল একটা কাটা হাত’, ভয়াবহ অভিজ্ঞতা প্রত্যক্ষদর্শীদের

‘কানফাটানো আওয়াজ। শব্দ শুনেই মনে হল, কোনও বড়সড় বিস্ফোরণ হয়েছে বোধহয়। তড়িঘড়ি বেরিয়ে দেখি, রক্তে ভিজেছে রাস্তা।

‘ছিটকে এসে পড়ল একটা কাটা হাত’, ভয়াবহ অভিজ্ঞতা প্রত্যক্ষদর্শীদের
  • ১১ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: ‘কানফাটানো আওয়াজ। শব্দ শুনেই মনে হল, কোনও বড়সড় বিস্ফোরণ হয়েছে বোধহয়। তড়িঘড়ি বেরিয়ে দেখি, রক্তে ভিজেছে রাস্তা। চারদিকে ছিন্নভিন্ন দেহের টুকরো। নিজেকে সামলে কয়েক পা এগতেই দেখি, পড়ে রয়েছে একটা কাটা হাত। ভয়ে হাত পা ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল।’ আতঙ্কে কাঁপতে কাঁপতে নিজের ভয়াবহ জানাচ্ছিলেন স্থানীয় এক বাসিন্দা। বিস্ফোরণের সময় ঘটনাস্থলেই ছিলেন অমিত মুদগল। তিনি বলেন, ‘প্রচণ্ড একটা বিস্ফোরণ। তারপরই সারা আকাশটা লাল হয়ে ওঠে। সঙ্গে সঙ্গে আর্ত চিৎকারে ভরে ওঠে পুরো এলাকা। উদভ্রান্তের মতো ছুটতে শুরু করেন সবাই। আমার সামনে ছিটকে এসে পড়ে জামা ঢাকা একটা কাটা  হাত।’

Advertisement

সোমবার সন্ধ্যায় লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে গাড়িতে জোরালো বিস্ফোরণ-আগুন। ঘটনার ভয়াবহতায় আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা। নিজেদের সেই অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে কেঁপে উঠছে তাঁদের গলা। বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন অটোরিকশ চালক জিশান। তিনি বলেন, ‘ওই গাড়িটি থেকে মাত্র দু’ফুট দূরে ছিলাম। গাড়িতে বোমা ছিল নাকি অন্য কিছু, জানি না। কিন্তু বিস্ফোরণের তীব্রতা ছিল মারাত্মক।’ ইরফান নামে অপর এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের পর রাস্তাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল কাটা হাত, আঙুল, গাড়ির স্টিয়ারিং। বেশ কয়েকজন ঠেলাওয়ালা ও ট্যাক্সিচালক বিস্ফোরণে গুরুতর জখম হয়েছেন।
লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের মূল প্রবেশপথের পাশে যে রাস্তা, সেখানেই একটি গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটে। সেখানে কর্তব্যরত এক মেট্রো কর্মী জানান, সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ খুব ধীরে একটি গাড়ি এসে থেমেছিল লালকেল্লার সিগন্যালের কাছে। তার কিছু পরেই বিস্ফোরণ ঘটে। ওই গাড়িটির পিছনে যত গাড়ি ছিল, প্রায় সবক’টিতেই আগুন ধরে যায়। রাস্তার উল্টোদিকে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িগুলিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশিরভাগ গাড়ির উইন্ডস্ক্রিন, জানালার কাচ ফেটে গিয়েছে। ওই এলাকায় যে সমস্ত স্ট্রিট হকার বসেন, তাঁরা প্রাণ বাঁচাতে দোকান খোলা রেখেই পালিয়ে যান।
স্থানীয় এক বাসিন্দা রাজধর পান্ডে বলেন, ‘কানফাটা আওয়াজে বাড়ির জানালা-দরজা কেঁপে উঠেছিল। বাইরে তাকিয়ে দেখি আগুন জ্বলছে।’ অপর এক দোকানদার চোখে-মুখে আতঙ্ক নিয়ে জানালেন, এত জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ কখনও শুনিনি। আমার দোকানের চেয়ারে বসেছিলাম। বিস্ফোরণের ধাক্কায় নীচে পড়ে যাই। কোনওমতে দোকান থেকে বেরিয়ে দৌড় দিই।’
সামনেই বিয়ের মরশুম। ফলে এদিন সন্ধ্যায় লালকেল্লা সংলগ্ন চাঁদনি চক মার্কেট ছিল জমজমাট। বিস্ফোরণের জেরে উপস্থিত জনতার মধ্যে রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে শুরু হয়ে শুরু হয়ে যায় হুড়োহুড়ি। বিস্ফোরণের পরেই লালকেল্লা সংলগ্ন সমস্ত রাস্তা বন্ধ করে দেয় পুলিশ। ঘটনাস্থলে ভিড় জমান অনেকে। বাধ্য হয়ে ভিড় হটাতে পুলিশকে একপ্রস্থ লাঠিচার্জও করতে হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ