Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ক্যাম্পাসে স্থায়ী পুলিস চৌকি, কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতাকেই দুষছেন যাদবপুরের শিক্ষকদের একাংশ

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভাস্কর গুপ্তকে নিয়ে যেমন একদিকে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হচ্ছে, তেমনই ক্যাম্পাসে পুলিস ঢোকার পক্ষেও তৈরি হচ্ছে জনমত।

ক্যাম্পাসে স্থায়ী পুলিস চৌকি, কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতাকেই দুষছেন যাদবপুরের শিক্ষকদের একাংশ
  • ১৩ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভাস্কর গুপ্তকে নিয়ে যেমন একদিকে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হচ্ছে, তেমনই ক্যাম্পাসে পুলিস ঢোকার পক্ষেও তৈরি হচ্ছে জনমত। এবার, ক্যাম্পাসে পাকাপাকি একটি পুলিস চৌকি বসানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আজাদ কাশ্মীর নিয়ে দেওয়াল চিত্র সামনে আসার পরে একটি পুলিস চৌকি ক্যাম্পাসে বসানোর প্রস্তাব দিয়েছে যাদবপুর থানা। লালবাজারের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়েও এসেছে সেই চিঠি। পাশাপাশি শোনা যাচ্ছে, ক্যাম্পাসে না এসে সাদার্ন অ্যাভিনিউয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো কোয়ার্টার থেকেই অফিস চালাতে চান উপাচার্য। যদিও, এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি সহ-উপাচার্য অমিতাভ দত্ত। প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি উপাচার্যেরও। ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি রেজিস্ট্রার ইন্দ্রজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিসের চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।

Advertisement

ওয়েবকুপার বার্ষিক সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুকে হেনস্তার দিন কার্যত দর্শকের ভূমিকায় ছিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তারক্ষীরা। বিক্ষোভের নামে উচ্ছৃঙ্খল ছাত্রদের ঠেকাতে যাওয়া তো দূরের কথা, মন্ত্রীকে উদ্ধারের চেষ্টাও করেননি তাঁরা। অনেকেই বলছেন, এর জন্যই মন্ত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে মরিয়া ছিলেন চালক। তার ফলে ইন্দ্রানুজ রায় নামে ওই ছাত্র গুরুতর ভাবে জখম হন। এরপরে, সোমবার অধ্যাপক ওমপ্রকাশ মিশ্র কাজে যোগ দিতে গেলে তাঁর সুরক্ষায় ক্যাম্পাসে সরাসরি পুলিস ঢোকে। বুধবার অধ্যাপক সংগঠন অ্যাবুটা দাবি করেছে, নিরাপত্তা দিতে উপাচার্যের ব্যর্থতাই ক্যাম্পাসে পুলিস ঢোকার পথ সহজ করেছে। প্রসঙ্গত, হাইকোর্টও যা ইঙ্গিত দিয়েছে, তাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ক্যাম্পাসে পুলিস ঢুকলে আদালত হস্তক্ষেপ করবে না। এই অবস্থায় অনেকেই বলছেন, সহ-উপাচার্যকে অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করুন উপাচার্য। সেক্ষেত্রে তিনি পড়ুয়াদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চালাতে পারবেন। তবে, উপাচার্য তাতে রাজি নন বলেই অন্দরের খবর। সিপিএম এবং জুটা তাঁকেই স্থায়ী উপাচার্য হিসেবে চাইছে। তবে, তাঁর অধ্যাপক পদে অবসর ৩১ মার্চ। তার আগে তাঁকে স্থায়ী উপাচার্য করার নির্দেশ না এলে তিনি সেই সুযোগ হারাবেন বলেই দাবি ওয়াকিবহাল মহলের। তাদের দাবি, ক্যাম্পাসে না এসে সেই সম্ভাবনা নিজেই বাড়িয়ে দিচ্ছেন ভাস্করবাবু। এদিকে, দেওয়ালচিত্র কাণ্ডে ছাত্র সংগঠন পিডিএসএফের সমর্থক চার পড়ুয়াকে চিহ্নিত করেছে পুলিস। তাদের শিগগিরই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হবে বলে খবর। তবে, ক্যাম্পাসে তৃণমূলের শিক্ষাবন্ধু সমিতির অফিসে আগুন লাগানোয় অভিযুক্ত প্রাক্তন ছাত্র সাহিল আলিকে এদিন শর্তাধীন জামিন দিয়েছে আলিপুর আদালত। শর্ত দেওয়া হয়েছে, পুলিস থানায় যখনই ডাকবে, তাঁকে হাজিরা দিতে হবে। তদন্তে সবরকম সহযোগিতাও করতে হবে তাঁকে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ