Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

শিশুর প্রশ্নে যুগান্তকারী আবিষ্কার ইনহেলার!

প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট। হাঁপানি। রাতে ঠিক মতো ঘুমোতে পারত না ১৩ বছরের মেয়ে সুশি। একদিন বাবা জর্জ মেইসনকে সে জিজ্ঞেস করল, হেয়ার স্প্রে ক্যানের মতো তার ওষুধও কেন কোনও ক্যানে পাওয়া যায় না? এই প্রশ্ন থেকেই জন্ম নিয়েছে এক যুগান্তকারী যন্ত্র— ইনহেলার।

শিশুর প্রশ্নে যুগান্তকারী আবিষ্কার  ইনহেলার!
  • ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট। হাঁপানি। রাতে ঠিক মতো ঘুমোতে পারত না ১৩ বছরের মেয়ে সুশি। একদিন বাবা জর্জ মেইসনকে সে জিজ্ঞেস করল, হেয়ার স্প্রে ক্যানের মতো তার ওষুধও কেন কোনও ক্যানে পাওয়া যায় না? এই প্রশ্ন থেকেই জন্ম নিয়েছে এক যুগান্তকারী যন্ত্র— ইনহেলার। 

Advertisement

শীতে এলেই শ্বাসকষ্ট শুরু হয় অনেকের। হাঁপানি বা সিওপিডির রোগীর কষ্ট বাড়ে এই সময়। সমস্যায় পড়েন অ্যালার্জির রোগীরাও। চিকিৎসকের পরামর্শ মতো হাতের কাছে ইনহেলার রাখেন তাঁরা। তবে বর্তমানে যেমন ইনহেলার দেখে আমরা অভ্যস্ত, প্রথমে তা মোটেই এমন ছিল না। ১৭৭৮ সালে ইংরেজ চিকিৎসক ও বিজ্ঞানী জন মুজ বিশেষ ধরনের যন্ত্রের বর্ণনা দেন। সেই সময় শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য ভেপার নেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। তবে তাতে তেমন লাভ হতো না। জন মুজ মূলত একটি টিনের পাত্র তৈরি করেছিলেন। সেখানে গরম জলের মধ্যে মেশানো থাকত আফিম জাতীয় ওষুধ। বাষ্পের আকারে তা গ্রহণ করতেন রোগী। ফুসফুসে পৌঁছে সেই বাষ্প সাময়িক আরাম দিত। শ্বাসকষ্ট নিরাময়ের জন্য জন মুজের এই যন্ত্র নিয়ে শুরু হল পরীক্ষা নিরীক্ষা। এই সময় থেকেই নেবুলাইজারের ধারণা ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে। নেবুলাইজার যন্ত্রটি তরল ওষুধকে সূক্ষ্ম কণায় ভেঙে দেয়। রোগী শ্বাসের সঙ্গে ওষুধ গ্রহণ করেন। তবে নেবুলাইজার আকারে বড়। বহনযোগ্যও নয়। ফলে সহজে শ্বাসকষ্টের ওষুধ কীভাবে ফুসফুসে পৌঁছে দেওয়া যায়, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু হল। তখনই মোক্ষম প্রশ্নটি করল সুশি তার বাবা জর্জ মেইসনকে। হেয়ার স্প্রে ক্যানের মতো তার ওষুধও কেন কোনও ক্যানে পাওয়া যায় না? আমেরিকার রাইকার ল্যাবরেটরিজের বিজ্ঞানী জর্জ মেইসন ভাবনাচিন্তা শুরু করলেন। সেটা ১৯৫০-এর দশক। মেইসন ভাবলেন এমন একটি ছোট যন্ত্র তৈরি করতে হবে সহজে ব্যবহার করা যায়। তাঁর পরীক্ষা থেকেই তৈরি হয় মিটারড ডোজ ইনহেলার বা এমডিআই। বর্তমানে ইনহেলার বললে আমাদের চোখের সামনে যে ছবি ভেসে ওঠে, সেটিই তৈরি করেছিলেন মেইসন। এমডিআই-তে চাপযুক্ত ক্যানিস্টারের ভিতরে ওষুধ ও প্রপেল্যান্ট গ্যাস থাকে। বোতামে চাপ দিলেই নির্দিষ্ট পরিমাণ ওষুধ সূক্ষ্ম গ্যাসের আকারে বের হয়। এই যন্ত্র দ্রুত বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পায়। এমডিআই-এর পরেও ইনহেলার নিয়ে নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা হয়েছে। তৈরি হয়েছে ড্রাই পাউডার ইনহেলার বা ডিপিআই। এতে কোনও প্রপেল্যান্ট গ্যাস থাকে না। রোগীর শ্বাসের মাধ্যমে গুঁড়ো ওষুধ ফুসফুসে প্রবেশ করে। এটি পরিবেশবান্ধব এবং ব্যবহারেও তুলনামূলক সহজ। তবে পর্যাপ্ত শ্বাসের জোর প্রয়োজন হওয়ায় এটি সব রোগীর জন্য উপযোগী নয়।
লিখেছেন শান্তনু দত্ত 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ