Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

প্রোমোটার খুনের দিনই বদলা নেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছিল হাওড়ার এক গ্যাংস্টার, দাবি গোয়েন্দাদের

প্রোমোটার মহম্মদ শফিককে গুলি করার খবর তার আত্মীয়ের মাধ্যমে পৌঁছে যায় উত্তর হাওড়ার কুখ্যাত দুষ্কৃতী আকাশের কাছে

প্রোমোটার খুনের দিনই বদলা নেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছিল হাওড়ার এক গ্যাংস্টার, দাবি গোয়েন্দাদের
  • ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রোমোটার মহম্মদ শফিককে গুলি করার খবর তার আত্মীয়ের মাধ্যমে পৌঁছে যায় উত্তর হাওড়ার কুখ্যাত দুষ্কৃতী আকাশের কাছে। মিনিট কুড়ির মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্র সহ দলবল নিয়ে এসে ওই গ্যাংস্টার  পিলখানা সেকেন্ড লেনে পৌঁছে খোঁজ শুরু করে অভিযুক্ত হারুন ও রাফাকাত হোসেন ওরফে রোহিতের। গ্যাংস্টারের লক্ষ্যই ছিল বদলা নেওয়া। সেখানে খুঁজে না পেয়ে হাওড়া স্টেশন পর্যন্ত গিয়েছিল ওই আকাশের গ্যাংয়ের ছেলেরা। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ  ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য পেয়েছেন হাওড়া সিটি পুলিশের গোয়েন্দারা। একইসঙ্গে শফিক ও হারুনের মধ্যে যে গোলমাল চলছে, একথা জানতে পারার পরই তাদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিল গোলাবাড়ি থানা। একাধিক ঘটনায় দুই অভিযুক্তকে নিয়ে কীভাবে মিটিংয়ে বসল পুলিশ, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অপরদিকে, খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত হারুন ও রোহিতের খোঁজে হাওড়া সিটি পুলিশের গোয়েন্দারা বিহার গিয়েছেন। 

Advertisement

ঘটনায় ভাইরাল হওয়ায় সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তদন্তকারীরা দেখেন, হারুন ও রোহিত গুলি চালানোর সময় শফিকের সঙ্গে একজন দাঁড়িয়ে ছিল। প্রথম গুলি চলার পর ওই যুবকও নাইন এমএম পিস্তল বের করেছে। কিন্তু সে গুলি চালানোর আগেই আরও তিন রাউন্ড গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। ওই যুবকের পরিচয় খুঁজতে গিয়ে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, সে শফিকের আত্মীয়। তার হাতে আগ্নেয়াস্ত্র থাকায় পুলিশ নিশ্চিত হয় খুনের আশঙ্কা করেই শফিক সশস্ত্র দেহরক্ষী নিয়ে ঘুরছিল। তদন্তে উঠে আসছে শফিক খুন হওয়ার খবর ওই আত্মীয়ই পৌঁছে দিয়েছিল উত্তর হাওড়ার দুষ্কৃতী আকাশের কাছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তদন্তকারীরার জানতে পারছেন, শফিক খুন হওয়ার মিনিট কুড়ির মধ্যে একদল যুবক এলাকায় ঢুকেছিল। তাদের প্রত্যেকের কাছে রয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র। এই যুবকদের পরিচয় জানতে গিয়ে গোয়েন্দারা দেখেন এরা সকলেই আকাশের গ্যাংয়ের। সঙ্গে তাদের ‘বস’  রয়েছে। জানা যাচ্ছে, তারা হারুন ও রোহিতকে খুঁজতেই এলাকায় এসেছিল। কিন্তু তাকে না পেয়ে বাইক বাহিনী হাওড়া স্টেশন পর্যন্ত যায়। এখান থেকেই তদন্তকারীরা বুঝতে পারছেন, খুনের পরই বদলা নেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। একইসঙ্গে পুলিশ জেনেছে, মঙ্গলবার সকাল থেকেই হারুন ও রোহিত আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল। অর্থাৎ দু’পক্ষই যে প্রস্তুত ছিল তা বুঝতে পারছে তারা। তবে এই খবর পুলিশের কাছে পৌঁছল না কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। 
তদন্তে উঠে আসছে, ব্যবসা সংক্রান্ত  বিষয় নিয়ে হারুন ও শফিকের মধ্যে গোলমাল অনেকদিন ধরেই চলছিল। বিষয়টি স্থানীয় গোলাবাড়ি থানার পুলিশ কর্মীদের একাংশ জানতেন। তারপরেও তাদের গ্রেপ্তার না করে, কেন ‘মিটমাটের’ চেষ্টা হয়, তা জানতে চাইছেন গোয়েন্দারা। আইনানুগ ব্যবস্থার পথে না গিয়ে দু’জনকে আলোচনার ডেকে পাঠানো হয়েছিল তিনদিন আগে। দুই দুষ্কৃতীকে কীভাবে থানায় বৈঠকের জন্য ডাকা হল, তাই নিয়ে বিভিন্ন মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও আলোচনায় ‘মিটমাট’ তো দূরের কথা, ফের সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে শফিক ও হারুন। হাওড়া সিটি পুলিশের এক কর্তা জানিয়েছেন, তদন্তে তাঁরা সবকিছু খতিয়ে দেখছেন।

সম্পর্কিত সংবাদ