টিংখং (অসম) : বিজেপি শাসিত অসমে ভোটের প্রচারে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর হাতিয়ার দুর্নীতি। নিশানায় মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। কংগ্রেস নেত্রীর অভিযোগ, রাজ্যের যাবতীয় সম্পদ শুধুমাত্র একটি পরিবার লুট করে চলেছে। অথচ সাধারণ মানুষের হাতে কিছুই নেই। এভাবে নাম না করে হিমন্তকে একহাত নিলেন ওয়েনাড়ের সাংসদ। তাঁর অভিযোগ, মানুষকে ভয় দেখিয়ে অসমে ‘লুট-তন্ত্র’ চালাচ্ছে গেরুয়া শিবির।
বুধবার কংগ্রেস প্রার্থী দেবব্রত সাইকিয়ার সমর্থনে নাজিরায় জনসভা করেন প্রিয়াঙ্কা। সেখানে বিজেপি তথা হিমন্তকে খোঁচা দিয়ে কংগ্রেস নেত্রীর বলেছেন, ‘একটিমাত্র পরিবার অসমকে লুট করে চলেছে। আর এর ফাঁকেই খনি, জমি বড়ো শিল্পপতিদের হাতে তুলে দিচ্ছে রাজ্যের বিজেপি সরকার। ওরা ডবল ইঞ্জিন সরকার চালানোর দাবি করছে। আসলে এটা ডবল-গোলামি সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমেরিকার গোলামি করছেন। আর হিমন্ত বিশ্বশর্মা মোদির দাসত্ব করে চলেছেন।’
প্রিয়াঙ্কার দাবি, ‘ভয় দেখিয়ে হুমকি দিয়ে দেশ-রাজ্য চালাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি ও মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত। অসমে মাফিয়া আর সিন্ডিকেট-রাজ চলছে। অসমের সংস্কৃতিকে রক্ষা করতে লড়াই করব আমরা।’ অসমের নির্বাচনে বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চা-বাগানগুলি। আপার অসমের প্রায় ৩৫টি বিধানসভা আসনে চা-শ্রমিকদের ব্যাপক প্রভাব। এহেন পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে পদ্ম শিবিরকে আক্রমণ করেন সোনিয়া-কন্যা। অভিযোগ, শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি বিজেপি। সরকারি প্রকল্প থেকে নাম বাদের ভয় দেখিয়ে মহিলাদের জনসভায় যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। পরে টিংখংয়ে কংগ্রেস প্রার্থী বিপুল গগৈয়ের সমর্থনে সভা করেন ওয়েনাড়ের কংগ্রেস সাংসদ। সেখানে তিনি জানান, রাজ্যে সব ধরনের সম্পদ থাকা সত্ত্বেও আম জনতা কিছুই পাচ্ছে না। প্রিয়াঙ্কার তোপ, ‘এই জমি আপনাদের সবকিছু দিয়েছে। তা সত্ত্বেও মানুষের হাতে কিছুই নেই। অসমে একটি পরিবার সমৃদ্ধ হচ্ছে।’