Bartaman Logo
৫ আগস্ট, ২০২৬

অভিনেত্রী তৃষাকে নিয়ে ‘অভব্য’ মন্তব্য, বিজয়ের নির্দেশে গ্রেপ্তার স্ট্যালিনের পুত্র, তড়িঘড়ি জামিন হাইকোর্টে

কাবেরী নদীর জলবন্টন বনাম সুপারস্টার তৃষা। তামিল রাজনীতি এই দুইয়ের মধ্যে পক্ষ অবলম্বন নিয়ে তোলপাড়।

অভিনেত্রী তৃষাকে নিয়ে ‘অভব্য’ মন্তব্য, বিজয়ের নির্দেশে গ্রেপ্তার স্ট্যালিনের পুত্র, তড়িঘড়ি জামিন হাইকোর্টে
  • ৫ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: কাবেরী নদীর জলবন্টন বনাম সুপারস্টার তৃষা। তামিল রাজনীতি এই দুইয়ের মধ্যে পক্ষ অবলম্বন নিয়ে তোলপাড়। সুপারস্টার নায়িকা তৃষাকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের পুত্র উদয়নিধি অপমান করেছেন। এই অভিযোগে মঙ্গলবার তাঁকে গ্রেপ্তার করল তামিলনাড়ু পুলিশ। নির্দেশ এসেছে মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয়ের থেকে। যদিও আদালতে স্বস্তি পান রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা। মাদ্রাজ হাইকোর্ট জিজ্ঞাসাবাদের পর এদিনই  উদয়নিধিকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। সেই মতো রাতে থানা থেকেই জামিনে মুক্তি পান প্রাক্তন  উপমুখ্যমন্ত্রী। তবে ডিএমকে নেতাকে তদন্তে সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে। 

Advertisement

উল্লেখ্য, বিজয় নিজেও তামিল ছবির সুপারস্টার। তৃষা নিছক তাঁর সহশিল্পী নয়। তাঁদের দুজনের বন্ধুত্ব ঘিরে তামিল সিনেমা, সমাজ, রাজনীতিতে  চর্চা দীর্ঘদিন ধরেই। সেই বন্ধুত্বের কথা অস্বীকারও করেন না তাঁরা দুজন। অতএব ভরা জনসভায় উদয়ানিধি তৃষার প্রতি কুমন্তব্য করবেন এবং মুখ্যমন্ত্রী পদে বসেও সেটা হজম করবেন রূপালী পর্দার অ্যাংরি ইয়ংম্যান বিজয়, এটা অসম্ভব। অতএব প্রত্যাশিতভাবে তাঞ্জাভুরের জনসভায় বিতর্কিত মন্তব্যের ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেপ্তার হলেন উদয়নিধি। 
ক্ষমতাসীন হয়ে বিরোধীকে গ্রেপ্তার করা তামিল রাজনীতির হাই ভোল্টেজ নাটকীয়তায় নতুন নয়। জয়ললিতা মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন মধ্যরাতে বাড়িতে ঢুকে করুণানিধিকে পুলিশ জিপে তোলা হয়েছিল। আবার করুণানিধি ক্ষমতাসীন থাকাকালীন জয়ললিতা গ্রেপ্তার হয়েছেন। সুতরাং সেই ট্র্যাডিশন যে সমাপ্ত হয়নি, ফের প্রমাণিত। ডিএমকের জনসভায় বিজয়কে আক্রমণ করে উদয়ানিধি বলেছিলেন, কাবেরী থেকে তামিলনাড়ুর প্রাপ্য জল আসছে না, কৃষকরা চরম দুর্ভোগে, অথচ মুখ্যমন্ত্রীর মুখ বন্ধ। এই সময় জনসভায় ডিএমকে কর্মী সমর্থকরা স্লোগান দিতে থাকেন তৃষার নাম করে। আর তারপরই উদয়ানিধি ইঙ্গিতপূর্ণ অশালীন মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ। যদিও উদয়ানিধি সেকথা স্বীকার করেননি। তিনি বলেন, ‘আমি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শুধু কাবেরীর নদীর জলবন্টন নিয়েই বলেছি।’ কিন্তু তিনি দ্ব্যর্থবোধক কুমন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ। আর সেই অভিযোগ তথা ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়তেই বিজয় প্রবল কুপিত হন। তিনি অবিলম্বে পুলিশকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন ।
উদয়নিধিকে গ্রেপ্তারি ঘিরে বিজয়ের দল টিভিকে এবং ডিএমকে সমর্থকদের মধ্যে জেলায় জেলায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। প্রসঙ্গত কাবেরী জলবন্টন ইস্যু নতুন নয়। কর্নাটক এবং তামিলনাড়ুর মধ্যে এই নিয়ে দড়ি টানাটানি ও রাজনীতি দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছে। সোমবারই বিজয়ের সরকার সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানিয়েছে যাতে কাবেরীর জল অবিলম্বে কর্নাটক সরকার তামিলনাড়ুকে দেয়। কিন্তু কাবেরী জলবন্টন নিয়ে উদয়ানিধি তৃষাকে টেনে আনবেন এটা সহ্য হয়নি বিজয়ের। অতএব তৃষার সম্মান রক্ষার্থে তিনি গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেন  উদয়নিধিকে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ