


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুরোদমে ভোটের দামামা বেজেছে। ফলে রক্তদান শিবিরের সংখ্যা তলানিতে। ডোনার এনে রক্ত না দিলে এখন সরকারি ব্লাড ব্যাংক থেকে রক্ত পাওয়া ভগবানের দেখা পাওয়ার মতোই ব্যাপার। এই পরিস্থিতি রাজ্যের এক নম্বর সরকারি ব্লাড ব্যাংক মানিকতলার সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাংকের ৮১ জন চিকিৎসক-কর্মীকে টেনে নেওয়া হল ভোটের ডিউটিতে। তাঁদের দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক তথা রিটার্নিং অফিসারের অধীনে ভোটের ট্রেনিং এবং কাজে পাঠানো হচ্ছে। সেই তালিকায় রয়েছে ৩৭ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্টেরও নাম।
প্রসঙ্গত, টেকনোলজিস্টদের যেকোনো ব্লাড ব্যাংকের প্রধান চালিকাশক্তি ধরা হয়। কারণ, রক্তদান শিবিরে গিয়ে রক্ত সংগ্রহ করা, ব্লাড ব্যাংকে ফিরে ৫টি অপরিহার্য পরীক্ষা করা, রোগীর রক্তের সঙ্গে দাতার রক্তের ক্রস ম্যাচ করা, রক্তের উপাদান পৃথক করা—সমস্ত কাজের সঙ্গেই যুক্ত থাকেন ব্লাড ব্যাংকের মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা। চিকিৎসকরা গোটা ব্যবস্থাপনার নজরদারিতে থাকেন। মেডিকেল চেক আপ করেন। তাদের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পরিস্থিতিতে সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাংকের ডিরেক্টর ১৮ জন কর্মী-আধিকারিকের তালিকা পাঠিয়ে তাদের মধ্যে ১৫ জনের ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, প্রত্যেকেই ‘ক্যাননট বি স্পেয়ারেবল ফর পাবলিক ইন্টারেস্ট’-জনস্বার্থে ছাড়া যাবে না। সব মিলিয়ে রক্তের আকালের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
এই প্রসঙ্গে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক কার্যালয়ের এক অফিসার বলেন, দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক তথা ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসার (ডিইও) নির্বাচনি ডিউটি দিয়ে থাকলে, তার কাছেই বিষয়টির গুরুত্ব জানিয়ে সমাধান করবার আরজি জানাতে হবে।
সূত্রের খবর, ডেপুটি ডিরেক্টর থেকে টেকনোলজিস্ট, স্টোরকিপার, পাবলিসিটি অফিসার থেকে চিকিৎসক, চতুর্থ শ্রেণি কর্মী—প্রায় কেউই বাদ নেই ভোটের কাজে পাঠানোর ওই তালিকায়। ফলে ব্যাপক রক্ত সংকটের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের জেরে রাজ্যে রক্তসংগ্রহ আরো তলানিতে ঠেকার আশঙ্কা করছেন রক্তদান আন্দোলনের কর্মীরা। শুধু সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাংকই নয়, এনআরএস-সহ শহরের অন্যান্য বড়ো সরকারি ব্লাড ব্যাংক থেকেও নির্বিচারে কর্মীদের ভোটের ডিউটি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতেই ২৪ মার্চ সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাংকের ডিরেক্টর ডাঃ পরমার্থ চট্টোপাধ্যায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডিইওকে চিঠি পাঠিয়ে চিকিৎসক, টেকনোলজিস্ট মিলিয়ে ১৮ জনের ওই তালিকা থেকে ১৫ জনকে অবশ্যই ব্লাড ব্যাংকে ফেরত পাঠানোর আবেদন করেছেন (বাকি তিনজনের মধ্যে একজন মারা গিয়েছেন। একজনের ২৯ এপ্রিল বিয়ে। একজন ২০২৫ সালেই বদলি)।
তালিকায় রয়েছেন ডেপুটি ডিরেক্টর, অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার, ৯ জন টেকনোলজিস্ট প্রভৃতি নানা ধরনের ক্যাডারের কর্মীরা। কেন তাঁদের ফেরানো জরুরি, সেই ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, চিঠির গোড়ায় স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, গ্রীষ্মকালীন রক্ত সংকটের এই সময়টায় একধরনের ‘ইমার্জেন্সি’ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে ব্লাড ব্যাংক। এই পরিস্থিতি রক্ত সরবরাহ নিরবিচ্ছিন্ন রাখতে জনস্বার্থে এই ১৫ জনের থাকা অপরিহার্য।