কিয়েভ: আমেরিকা, ভারত থেকে শুরু করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। রাশিয়া-ইউক্রেনের দীর্ঘ সংঘাত থামাতে তৎপর সবাই। এরইমাঝে রবিবার ভোর রাতে ফের হামলা-পাল্টা হামলা চলল মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে। এযাবৎ আকাশপথে সবচেয়ে বড় অভিযান চালাল রাশিয়া। আটশোর বেশি ড্রোন ও মিসাইল ধেয়ে এল ইউক্রেনের আকাশে। এর জেরে ক্ষতিগ্রস্ত ইউক্রেনের মন্ত্রিভবন সহ একাধিক বহুতল। এদিন মন্ত্রিভবনের ছাদ থেকে কালো ধোঁয়া বেরতে থাকে। তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল ও অ্যাম্বুলেন্স। হামলায় দু’মাসের এক শিশু ও তার মায়ের মৃত্যু হয়েছে। জখম ১৮ জন। জানা গিয়েছে, এই প্রথম ইউক্রেনের কোনও সরকারি ভবনে আঘাত হানল রাশিয়া। পাল্টা রাশিয়ার তেলের পাইপলাইনে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন।
ইউক্রেন বায়ুসেনা সূত্রে খবর, রবিবার ভোররাতে ৮১০টি ড্রোন, চারটি ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ন’টি ক্রুজ মিসাইল ছোড়ে মস্কো। অধিকাংশ ড্রোনই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তবে ৫৪টি ড্রোন ও ন’টি মিসাইল ইউক্রেনের নানা প্রান্তে আঘাত হেনেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইউক্রেনের মন্ত্রিভবনের একাংশ। ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া ভ্যারিডেঙ্কোর কথায়, শত্রু হামলায় এই প্রথমবার ইউক্রেনের কোনও সরকারি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অন্যদিকে, রাশিয়ার ব্রায়ানস্ক অঞ্চলের দ্রুজবা ওয়েল পাইপলাইনে পাল্টা হামলা চালায় ইউক্রেন। এই পাইপ লাইনের মধ্য দিয়ে হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ায় তেল পৌঁছয়। ইউক্রেনের হামলার জেরে এবার সেই তেল সরবরাহে বড়সড় সমস্যা দেখা দিয়েছে। এর আগে জুলাই মাসে ইউক্রেনে বড়সড় হামলা চালিয়েছিল রাশিয়া। ৭২৮টি ড্রোন ও ১৩টি মিসাইল ছোড়া হয়েছিল। এবার সেই রেকর্ডও ভেঙে গেল। এদিন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানান, অত্যন্ত জঘন্য। ইচ্ছাকৃতভাবে এই হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে রাশিয়া। যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করার প্রচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।