Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তালিকায় ৮০০ জন! দাগি তকমায় ভোটের দিন প্রার্থীদেরও গ্রেপ্তারের ছক কমিশনের?

দলের কমপক্ষে ১৫ জন প্রার্থী সহ বিভিন্ন স্তরের ৮০০ নেতা-কর্মীকে ‘ট্রাবল মেকার’ তকমা দিয়ে গ্রেপ্তারির ছক কষেছে নির্বাচন কমিশন।

তালিকায় ৮০০ জন! দাগি তকমায় ভোটের দিন প্রার্থীদেরও গ্রেপ্তারের ছক কমিশনের?
  • ২১ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দলের কমপক্ষে ১৫ জন প্রার্থী সহ বিভিন্ন স্তরের ৮০০ নেতা-কর্মীকে ‘ট্রাবল মেকার’ তকমা দিয়ে গ্রেপ্তারির ছক কষেছে নির্বাচন কমিশন। আশ্চর্যের বিষয় হল, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূলের পুরুষ প্রাথী, জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গেই তালিকায় নাম রয়েছে বেহালা পশ্চিম কেন্দ্রের মহিলা প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায়ের। দলের প্রার্থী ও প্রথমসারির প্রচারকদের গ্রেপ্তারির আশঙ্কাকে সামনে রেখে সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হল তৃণমূল কংগ্রেস। কাদের গ্রেপ্তার করার ছক কষা হচ্ছে, জেলাওয়াড়ি সেই তালিকা জমা দিয়েছে তৃণমূল। হাইকোর্টে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় গ্রেপ্তারের আশঙ্কা প্রকাশ করে বিষয়টিতে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করেন। তৃণমূলের সেই আরজির প্রেক্ষিতে মামলা করার অনুমতি দিয়েছে আদালত। কাল, বুধবার সেই মামলার শুনানির সম্ভাবনা। তপসিয়ার বাসিন্দা মহম্মদ দানিশ আনসারি নামে এক যুবক এই জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করেছেন। মামলায় পক্ষ করা হয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক, রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতার সিপি সহ মোট ছ’জনকে। মামলাকারীর আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘গোটা গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ধ্বংস করতে নেমেছে নির্বাচন কমিশন।  ট্রাবল মেকার তালিকা তৈরি করে নির্বাচনের দিন প্রার্থীদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে এটাই আশঙ্কা। তাই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।’ এই আবর্তেই এদিন সাংবাদিক সম্মেলন করে রাজ্যসভার তৃণমূল দলনেতা ডেরেক ও ব্রায়েন অভিযোগ করেছেন, আগামী ১৫০ ঘণ্টার মধ্যে সিরিয়াস অ্যাকশন প্ল্যান করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে সিবিআই, ইডি এবং এনআইএ প্রধানদের বৈঠক ডেকে ওই অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করা হয়েছে। যেখানে বিজেপির কোনো জনসমর্থন নেই, এমন সব এলাকা মরিয়া হয়ে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করার চেষ্টা চলছে বলে ডেরেকের আরও অভিযোগ। 

Advertisement

এদিকে, ৮০০ জনকে গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় মামলাকারীর তরফে কলকাতা হাইকোটের যে পিটিশন দাখিল করা হয়েছে, তার সঙ্গে জেলাওয়াড়ি একটি নামের তালিকা দেওয়া হয়েছে। কমিশনের নজরে তালিকাভুক্তরা সবাই ‘ট্রাবল মেকার’ সেই তালিকায় রয়েছে কোচবিহারের চার  প্রার্থী পরেশচন্দ্র অধিকারী, অভিজিৎ দে ভৌমিক (হিপ্পি), পার্থপ্রতিম রায় এবং উদয়ন গুহের নাম। জলপাইগুড়ি জেলার তালিকায় রয়েছে তৃণমূল প্রার্থী কৃষ্ণ দাসের নাম। উত্তর দিনাজপুরের তালিকায় নাম রয়েছে বর্তমান তিন বিধায়ক তথা প্রার্থী হামিদুর রহমান, গৌতম পাল ও সত্যজিৎ বর্মণের। মালদহের ক্ষেত্রে তালিকায় রয়েছেন বর্তমান বিধায়ক মনিরুল ইসলাম এবং প্রাক্তন বিধায়ক তথা মন্ত্রী তাজমূল হোসেন। দক্ষিণবঙ্গের এই তালিকায় নাম রয়েছে মুর্শিদাবাদের তৃণমূল প্রার্থী ইমানি বিশ্বাস, চাকদহের শুভঙ্কর সিংহ (যিশু), রানাঘাট পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান আনন্দ দে, বনগাঁ উত্তরের প্রার্থী বিশ্বজিৎ দাস, গাইঘাটার নরোত্তম বিশ্বাস, স্বরূপনগরের বীণা মণ্ডল এবং অশোকনগর কেন্দ্রের প্রার্থী তথা উত্তর ২৪ পরগনার জেলা সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামীর। এছাড়াও বাদুডিয়ার তৃণমূল প্রার্থী বুরহাউদ্দিন মুকাদ্দস লিটন, উত্তর দমদম পুরসভার চেয়ারম্যান বিধান বিশ্বাস, বনগাঁ পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান শংকর আঢ্য প্রমুখের। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতার প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান এবং মেটিয়াবুরুজের প্রার্থী আব্দুল খালেক মোল্লার নামও রয়েছে ‘ট্রাবল মেকার’ তালিকায়। কলকাতা শহর ও সংলগ্ন এলাকার ‘ট্রাবল মেকার’ তালিকায় নাম রয়েছে সুশান্ত ঘোষ (স্বরূপ), কাউন্সিলার ফৈয়াজ আহমেদ খাদ, প্রিয়াল চৌধুরি, প্রাক্তন সাংসদ শান্তনু সেন, কুমার সাহা, শংকর রাউথের। এছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন জেলার বিধানসভা কেন্দ্রওয়াড়ি তৃণমূলের প্রথম সারির ভোট ম্যানেজারদের নামও রয়েছে ‘ট্রাবল মেকার’ তালিকায়।  
এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে ডেরেকের অভিযোগ, 

সম্পর্কিত সংবাদ