Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তৃণমূল প্রার্থীকে খুনের ঘটনায় ৭ বিজেপি কর্মীর আমৃত্যু কারাদণ্ড

২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী বিপ্লব সরকার খুনের ঘটনায় দোষী সাত বিজেপি কর্মীকে বৃহস্পতিবার আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল বারাসত আদালত।

তৃণমূল প্রার্থীকে খুনের ঘটনায় ৭ বিজেপি কর্মীর আমৃত্যু কারাদণ্ড
  • ২১ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী বিপ্লব সরকার খুনের ঘটনায় দোষী সাত বিজেপি কর্মীকে বৃহস্পতিবার আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল বারাসত আদালত। পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লক্ষ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছ’মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বারাসত আদালতের সপ্তম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা কোর্টের বিচারক প্রজ্ঞা গার্গী ভট্টাচার্য হোসেন। এছাড়া, খুনে অন্যতম অভিযুক্ত পলাতক বিজেপি নেতা সুজিত দাসকে দ্রুত গ্রেপ্তারেরও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

Advertisement

২০১৮ সালের ১৪ মে ছিল পঞ্চায়েত নির্বাচন। হাবড়া ১ নম্বর ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন বিপ্লব সরকার। তিনি বেড়গুম ২ পঞ্চায়েত এলাকা থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ওইদিন নির্বাচন শেষে বিপ্লব কর্মীদের নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে বসেছিলেন। সেই সময় বিজেপির কর্মীরা তৃণমূলের পার্টি অফিসে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বিপ্লবের। দুষ্কৃতীদের গুলিতে জখম হন তৃণমূল আইনজীবী সেলের সদস্য অনুপ দাসও। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে গোবরডাঙা থানার পুলিস ন’জনকে গ্রেপ্তার করে। মামলা চলে বারাসত আদালতে। পরবর্তীতে অবশ্য হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অভিযুক্তরা। হাইকোর্টের নির্দেশে ন’জন জামিন পান। কিন্তু, নিম্ন আদালতে মামলাটি চলছিল। ফলে, বারাসত আদালতে হাজিরা দিতে হতো অভিযুক্তদের। মামলায় মোট ২৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন বিচারক। মূল সাক্ষী ছিলেন তৃণমূল আইনজীবী সেলের সদস্য অনুপ দাস। সাতবছর মামলা চলার পর গত ১৭ মার্চ এক অভিযুক্তকে এই মামলা থেকে খালাস করে দেন বিচারক। বাকি সাতজনকে দোষী সাব্যস্ত করেন বিচারক। তবে, দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেই খুনের মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত বিজেপি নেতা সুজিত দাস পালিয়ে যান। ওই দিনেই পলাতক অভিযুক্ত সুজিতকে দ্রুত গ্রেপ্তার করার জন্য গোবরডাঙা থানার পুলিসকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।  মামলার সরকারি আইনজীবী শ্যামলকান্তি দত্ত বলেন, নির্দিষ্ট ধারায় সাতজনকে আগেই দোষী সাব্যস্ত করেন বিচারক। তাদের আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা হল। প্রত্যেককে এক লক্ষ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছ’মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। মামলার মূল সাক্ষী তথা আইনজীবী অনুপ দাস বলেন, মামলাটি জেলা আদালতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আর আমাদের টিম দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইয়ের ফল হাতে পেল। আসামি পক্ষের আইনজীবী দুলাল সরকার বলেন, রাজনৈতিক হিংসা থেকেই খুনের ঘটনা ঘটে। আমরা নিম্ন আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টে আবেদন করব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ