নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ভূপতিনগর থানায় জয়েন করার পরই থাকার জন্য তাঁর বাড়িকে বেছে নিতেন স্বয়ং ওসি। থানার ওসি বাড়িতে ভাড়ায় থাকায় ভূপতিনগর থানার আঙ্গারবেড়িয়া গ্রামের মহাদেব প্রধানের দাপট ছিল প্রশ্নাতীত। সেই দাপট কাজে লাগিয়ে শেয়ার ট্রেডিং করার নামে মেদিনীপুর নদীয়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪পরগনা সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে কয়েক কোটি টাকা তোলে বলে অভিযোগ। আগেই মহাদেবের বিরুদ্ধে পাঁচটি চেক বাউন্সের মামলা দায়ের হয়েছিল। গত ১৩ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে ৫০লক্ষ টাকা প্রতারণার আরও একটি কেস হয়েছে। হুগলি জেলার দাদপুর থানার হাসনান গ্রামের শুভাশিস কুণ্ডু শেয়ার ট্রেডিংয়ে আগ্রহ দেখিয়ে মহাদেবকে ৫০লক্ষ টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন বলে অভিযোগ। তিনি হুগলিতে অভিযোগ দায়ের করার পর সেখানকার পুলিশ সুপার ওই অভিযোগের কপি পূর্ব মেদিনীপুরের এসপিকে পাঠিয়েছেন। সেইমতো পুলিশ সুপারের নির্দেশে ১৩সেপ্টম্বর ভূপতিনগর থানায় মহাদেবের বিরুদ্ধে পুনরায় এফআইআর দায়ের হয়েছে।
শেয়ার ট্রেডিং কারবারের নামে কোটি কোটি টাকা তুলে বিপুল সম্পত্তি বানিয়েছে মহাদেব। পুলিশ জানতে পেরেছে, ভূপতিনগর থানার আঙ্গারবেড়িয়া ছাড়াও কিসমত পাটনা ও মুগবেড়িয়া গ্রামীণ হাসপাতাল লাগোয়া এলাকায় মহাদেবদের বাড়ি রয়েছে। মাধাখালিতে হোটেল বানিয়েছে। দীঘায় প্রচুর সম্পত্তি কিনেছে। তার শেয়ার ট্রেডিংয়ে বিনিয়োগ করে অনেকেই টাকা পাননি। টাকার দাবিতে তাগাদা আসতেই সে বেশকিছু দিন আত্মগোপন করে। এখন তার বাড়িতে থানার ওসি ভাড়ায় না থাকলেও পুলিশের একটা অংশের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক এলাকার সকলেরই জানা। ২০২৪ সালে ৩১ ডিসেম্বর মহাদেবের বিরুদ্ধে তিনটি চেক বাউন্স মামলা দায়ের হয়। এছাড়াও ওই বছর ২৯ অক্টোবর নদীয়ার রানাঘাটে আরও একটি চেক বাউন্স মামলা দায়ের হয়। সবক’টি কেসে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। গোটা বিষয়টি ৩১মে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হতেই ভূপতিনগর থানার পুলিশ ১২জুন রাত ১২টা নাগাদ তাকে উদবাদাল ব্রিজ এলাকা থেকে পাকড়াও করে। থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। খবর পেয়ে একঝাঁক তৃণমূল নেতা হাজির হন। মাথার উপর চারটি ওয়ারেন্ট থাকা সত্ত্বেও রাত ২টো নাগাদ তাকে থানা থেকে বেলবন্ডে মুক্তি দেওয়া হয়। তার বেলবন্ডে সই করেন মুগবেড়িয়া গঙ্গাধর কলেজের ছাত্র সংসদের প্রাক্তন জিএস উদিতনারায়ণ মণ্ডল। সোমবার উদিত বলেন, মহাদেব এভাবে প্রতারণার জাল পেতেছিল জানলে বেলবন্ডে ছাড়াতাম না।
হুগলির প্রতারিত শুভাশিস কুণ্ডু বলেন, ব্যবসায় মোটা প্রফিটের টোপ দিয়ে আমার কাছ থেকে ৫০লক্ষ টাকা নিয়েছিল মহাদেব। তারপর ফোনে যোগাযোগ রাখত না। বারবার বলার পরেও টাকা ফেরত দেয়নি। তাই এফআইআর করেছি। অভিযুক্ত মহাদেবের বক্তব্য, শুভাশিসবাবু আমাকে টাকা দিয়েছেন একথা ঠিক। তবে, আমি টাকা ফেরানোর কাজ শুরু করেছি। ইতিমধ্যে যেসব ওয়ারেন্ট ছিল সেইসব কেসে জামিনও নিয়েছি। আমি প্রত্যেকের টাকা ধীরে ধীরে শোধ করব। ভূপতিনগর থানার ওসি শেখ মহম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, মহাদেব প্রধানের বিরুদ্ধে ৫০লক্ষ টাকা প্রতারণার মামলা দায়ের হয়েছে। আমরা ওই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছি।