নয়াদিল্লি ও বিশেষ সংবাদদাতা, শ্রীনগর: দায় ঝেড়ে ফেলতে ‘কুমিরের কান্না’ শুরু করেছে পাকিস্তান। যদিও সেই শাকে মাছ ঢাকা পড়ছে না। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি এবং ইন্টেলিজেন্স রিপোর্ট সাফ জানাচ্ছে, ২৬/১১ মুম্বই হামলার মতো পহেলগাঁও হত্যালীলার ছকও কষা হয়েছিল পাকিস্তানে বসে। মঙ্গলবার পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ উপত্যকায় হামলা চালিয়েছে অন্তত পাঁচজন পাকিস্তানি জঙ্গি। সঙ্গে ছিল দুই কাশ্মীরিও। পাক জঙ্গিদের পরনে ছিল সেনার মতো পোশাক। কাশ্মীরি দু’জনের পাঠানি স্যুট। প্রত্যেকের হাতে একে ৪৭, আর তাতে স্টিল-টিপড বুলেট। ছিল বডি ক্যামেরাও। একটি সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, দুই কাশ্মীরি জঙ্গির নাম আদিল ঠাকুর এবং আসিফ শেখ। তারা বিজবেহরা এং ত্রালের বাসিন্দা। গোয়েন্দাদের দাবি, পাঁচ পাকিস্তানি জঙ্গিরা নিজেদের মধ্যে পশতু ভাষায় কথা বলছিল। এই ভাষাটি মূলত পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনওয়ার বাসিন্দারা ব্যবহার করে। সীমান্তের ওপার থেকে আগাগোড়া হামলাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিল হ্যান্ডলাররা। আর সেই কাজ করা হয়েছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মুজফ্ফরাবাদ ও পাকিস্তানের করাচির ‘সেফ হাউস’ থেকে। ডিজিটাল ও ফরেন্সিক প্রমাণ থেকে সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট।
বুধবারই উপত্যকায় পৌঁছে গিয়েছে এনআইএ টিম। হামলাকারী হিসেবে তিন সন্দেহভাজন জঙ্গির স্কেচও প্রকাশ করা হয়েছে। ঘোষণা করা হয়েছে ২০ লক্ষের পুরস্কারও। ওই তিন জঙ্গির নাম আসিফ ফৌজি, সুলেমান শাহ ও আবু তালহা। অপারেশনে অবশ্য ব্যবহার করা হয়েছে ‘কোড নেম’—মুসা, ইউনুস ও আসিফ। তিনজনই অতীতে পুঞ্চে সন্ত্রাসবাদী কাজকর্মে জড়িত ছিল।
গোটা হামলার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে নাম উঠে এসেছে লস্কর-ই-তোইবার ডেপুটি চিফ, সইফুল্লা কাসুরি ওরফে খালিদের। সে মুম্বই হামলার মূলচক্রী তথা লস্কর প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সইদের অতি ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত।
এদিন তদন্তের কাজে যুক্ত নিরাপত্তা বাহিনীর এক প্রবীণ আধিকারিক বলেন, এই ঘটনাকে নিছক কোনও বিচ্ছিন্ন জঙ্গি হামলা ভাবলে ভুল হবে। হামলাকারীদের নির্দেশ দেওয়া থেকে অস্ত্রশস্ত্রের জোগান, সবই সীমান্তের ওপার থেকে এসেছে। জঙ্গল থেকে এসে হত্যালীলা চালিয়ে সেই পথে ফিরে গিয়েছে তারা। জঙ্গিদের কাছে একে-৪৭ সহ অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র ও সরঞ্জাম ছিল। ছিল বডি ক্যামেরা। হেলমেটে লাগানো সেই ক্যামেরায় হত্যালীলার ছবি পৌঁছে গিয়েছে সীমান্তের ওপারে পাক হ্যান্ডলারদের কাছে। এরই মধ্যে ঘটনাস্থলের কাছে নম্বরপ্লেটহীন একটি বাইক উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।