Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হুগলিতে বন্ধ ৪৯টি শিশুশিক্ষা কেন্দ্র, স্কুলঘরে আইসিডিএস কেন্দ্র চালাতে চায় জেলা পরিষদ

হুগলি জেলার ৪৯টি শিশুশিক্ষা কেন্দ্র বন্ধ করা হল। জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে থাকা শিশুশিক্ষা কেন্দ্রগুলি(এসএসকে) দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকের অভাবে ধুঁকছিল।

হুগলিতে বন্ধ ৪৯টি শিশুশিক্ষা কেন্দ্র, স্কুলঘরে আইসিডিএস কেন্দ্র চালাতে চায় জেলা পরিষদ
  • ২৬ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: হুগলি জেলার ৪৯টি শিশুশিক্ষা কেন্দ্র বন্ধ করা হল। জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে থাকা শিশুশিক্ষা কেন্দ্রগুলি(এসএসকে) দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকের অভাবে ধুঁকছিল। শেষপর্যন্ত সেগুলি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গত সপ্তায় জেলা পরিষদের শিক্ষা স্থায়ী সমিতির সভায় এই জেলার শিক্ষা বিভাগের আধিকারিকরা এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তারপর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উপযুক্ত পরিকাঠামো থাকা শিশুশিক্ষা কেন্দ্রের বাড়িগুলিতে আইসিডিএস কেন্দ্র পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরিষদের দাবি, অনেক ক্ষেত্রেই জেলার আইসিডিএস কেন্দ্রগুলি স্থানীয় ক্লাব ঘর বা ভাড়াবাড়িতে চলছে। এবার শিশুশিক্ষা কেন্দ্রের পরিকাঠামোর সঠিক বিকল্প ব্যবহার করা যাবে। এ নিয়ে রাজ্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়ে অনুমোদন চাওয়া হয়েছে।

Advertisement

হুগলি জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ সুবীর মুখোপাধ্যায় বলেন, জেলায় অনেকগুলি শিশুশিক্ষা কেন্দ্র সাফল্যের সঙ্গে চলছে। কিন্তু শিক্ষকের অভাবে প্রায় ৪৯টি কেন্দ্রে পঠনপাঠন বন্ধ। এই পরিস্থিতিতে আমরা ওগুলি বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছি। তবে সেগুলিতে উন্নত পরিকাঠামো আছে। স্থায়ী ভবনও আছে। সেগুলিতে আমরা স্থানীয় আইসিডিএস কেন্দ্রগুলি স্থানান্তরিত করতে চাই। তাতে মা ও শিশুর পুষ্টি এবং শিক্ষার কাজ ভালোভাবে করা যাবে। বিষয়টি রাজ্য সরকারের কাছে প্রস্তাব সহ পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে হুগলি জেলা পরিষদের সভাধিপতি রঞ্জন ধাড়া বলেন, আমজনতার করের টাকার যথার্থ ব্যবহার করার দায়িত্ব আছে আমাদের। উন্নত পরিকাঠামো পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে গেলে অনুচিত হবে। সে কারণে যোগ্য বিকল্প উপায় শিক্ষাকর্তারা খুঁজেছেন। আমি মনে করি ওই বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের পরিসংখ্যান অনুসারে সবথেকে বেশি শিশুশিক্ষা কেন্দ্র বন্ধ হরিপাল ব্লকে। সেখানে একসঙ্গে ১৩টি কেন্দ্র বন্ধ করা হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে আছে পাণ্ডুয়া ও চণ্ডীতলা এক নম্বর ব্লক। দু’টির ক্ষেত্রেই সাতটি করে কেন্দ্র বন্ধ করে দিতে হয়েছে। খানাকুল দুই এবং গোঘাট এক নম্বর ব্লকে চারটি করে কেন্দ্র বন্ধ। তিনটি করে কেন্দ্র বন্ধ করতে হয়েছে পুরশুড়া, বলাগড় ও সিঙ্গুরে। দু’টি করে বন্ধ তারকেশ্বর ও গোঘাট দুই নম্বর ব্লকে। জেলা সদরের চুঁচুড়া-মগরা, খানাকুল এক, শ্রীরামপুর, জাঙ্গিপাড়া, আরামবাগ ও ধনেখালিতে একটি করে এসএসকে বন্ধ হয়েছে।
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাম আমলে তৃণমূলস্তরে বিকল্প শিক্ষার কেন্দ্র হিসাবে শিশুশিক্ষা কেন্দ্র চালু হয়েছিল। সেখানে প্রায় দশ হাজার টাকার কাছাকাছি ভাতা দিয়ে শিক্ষক নিয়োগ করা হয়। প্রথমে পঞ্চায়েত দপ্তরের অধীনে ছিল সেগুলি। পরে তা শিক্ষাদপ্তরের অধীনে চলে যায়। কিন্তু ২০২০ সাল থেকেই জেলার বড় অংশে এসএসকে শিক্ষকের অভাবে ভুগছিল কেন্দ্রগুলি। এবার তা বন্ধ করে বিকল্প শিক্ষাকেন্দ্র হিসাবে ব্যবহারের উদ্যোগ নিল হুগলি জেলা পরিষদ।
জেলা পরিষদের ছবি আছে 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ