


সংবাদদাতা, বনগাঁ: গ্রামের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের সিঁড়িতে বসে গল্প করছিলেন ঝুনু শবর, পূর্ণিমা শবররা। সকলেই বাগদা ব্লকের আষাঢ়ু পঞ্চায়েতের আমডোব শবরপাড়ার বাসিন্দা। এই গ্রামে এখনও সেভাবে পৌঁছয়নি সরকারি সুযোগসুবিধা। জাতিগত শংসাপত্র না মেলায় পদে পদে সমস্যায় পড়তে হয় তাঁদের। সম্প্রতি প্রশাসনের পক্ষ থেকে শবরপাড়ার ৪৬ জন বাসিন্দাকে দেওয়া হয়েছে তফসিলি উপজাতি শংসাপত্র। জাতিগত শংসাপত্র হাতে পাওয়ার পর আশায় বুক বাঁধছেন বাসিন্দারা। তাঁদের আশা, এবার মিলবে তফসিলি উপজাতি সংরক্ষণের বিভিন্ন সরকারি সুযোগ সুবিধা।
এখনও সেই অর্থে শিক্ষার আলো পৌঁছয়নি শবরপাড়ায়। গ্রামের প্রায় ৬০০ জন বাসিন্দার মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হয়েছেন মাত্র দু’জন। আশ্চর্যের বিষয় হল, গ্রামবাসীদের দাবি, তাঁরা কেউ জাতিগত শংসাপত্রের বিষয়ে কিছুদিন আগে পর্যন্তও কিছু জানতেন না! যে কারণে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, বিধবা ভাতা, বার্ধক্য ভাতা মিললেও সংরক্ষিত শ্রেণির কোনও সুযোগসুবিধা পেতেন না তাঁরা। সম্প্রতি গ্রামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে তৈরি হয়েছে স্কুল। গ্রামের প্রথম উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ যুবক বাসুদেব শবর সেই স্কুলে গ্রামের শিশুদের পড়ান। মূলত তাঁরই উদ্যোগে এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সহযোগিতায় বেশ কয়েকজনের জাতিগত শংসাপত্রের জন্য আবেদন জানানো হয়েছিল। সেই আবেদনের ভিত্তিতে প্রাথমিক ভাবে ৪৬ জনকে দেওয়া হয়েছে এই শংসাপত্র। গ্রামের বাসিন্দা বিপিন শবর পেয়েছেন শংসাপত্র। তিনি বলেন, ‘আমরা কিছুই জানতাম না। গ্রামের এই স্কুলের স্যারদের সাহায্যে সার্টিফিকেট পেয়েছি। এবার হয়তো সরকারি সুযোগ মিলবে।’ অঞ্জলি শবর বলেন, ‘ভোটের সময় সব নেতারা আসেন। ভোট দিতে বলেন। কিন্তু এসব সুবিধা যে পাওয়া যায়, কখনও কেউ বলেনি। তাহলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ১২০০ টাকা পেতাম।’
গ্রামের সকলেই দারিদ্র্যসীমার নীচে বাস করেন। দিনমজুর, প্লাস্টিক কুড়নো, শিকার করে দিন চলে। বাসুদেব শবর বলেন, ‘বাসিন্দারা এতদিন সরকারি অনেক সুযোগসুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। আমরা একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে শিশুদের পড়াশোনা ও তাদের নানা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।’ এ বিষয়ে আষাঢ়ু পঞ্চায়েতের প্রধান সুমনা মণ্ডল বলেন, ‘গ্রামের বেশ কিছু বাসিন্দা জাতিগত শংসাপত্র পেতে আবেদন করেছিলেন। এখনও পর্যন্ত ৪৬ জনকে দেওয়া হয়েছে। আগামীতে আরও দেওয়া হবে। তাঁদের সরকারি সুবিধার ক্ষেত্রেও প্রশাসনিক দিক থেকে সাহায্য করা হবে।’