


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিগত বছরগুলির তুলনায় ২০২৫ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমেছে বহুগুণ। ধারাবাহিকভাবে সারা বছর ডেঙ্গু বিরোধী অভিযানের ফলেই তা সম্ভব হয়েছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। তবে এই কাজে শৈথিল্য দেখাতে নারাজ নবান্ন ও এই কাজের সঙ্গে যুক্ত দপ্তরগুলি। ইতিমধ্যেই জোরকদমে কাজ শুরু করে দিয়েছে পুরদপ্তর ও তার অধীনে থাকা স্টেট আরবান ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (সুডা)। সূত্রের খবর, ২০২৫ সালে রাজ্যে ৪২টি পুরসভা এলাকায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ হয়েছিল। তারমধ্যে ১২টি পুরসভা ছিল স্পর্শকাতর। কারণ, মোট আক্রান্তের ৫২.৮ শতাংশের বাস ওই ১২টি পুরসভা এলাকায়। ফলে এবার ডেঙ্গু নিয়ে বিশেষ নজরদারি চালানোর প্রশ্নে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে ওই ১২টিকে। যেখানে রাজ্য থেকে কীটপতঙ্গবিদদের বিশেষ দল পাঠিয়ে পাড়া ভিত্তিক অ্যাকশন প্ল্যান বা মাইক্রো প্লাস তৈরি করেছে সুডা। যার উপর ভিত্তি করে নিয়মিত সাফাই অভিযান চালানো হবে ওই সমস্ত এলাকায়। একইসঙ্গে চালানো হবে ডেঙ্গু প্রতিরোধ সংক্রান্ত প্রচার।
ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে মোট ৪২টি পুরসভায় এলাকা পরিদর্শন করে তৈরি করা হয়েছে অ্যাকশন প্ল্যান। এবার রাজ্যের বাকি পুরসভাগুলিতেও এই কাজ চালু হচ্ছে। রাজ্যের এক পদস্থ কর্তা জানিয়েছেন, ‘আমরা ৪২টি পুরসভার উপর বিশেষ নজর রাখছি। তার মানে বাকি পুরসভাগুলিতে কিছু হচ্ছে না, এমনটা নয়। গত বছর যেখানে বেশি ডেঙ্গুর সংক্রমণ ধরা পড়েছে, প্রথমে সেখানে মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তারপর বাকি পুরসভাগুলিতে সমীক্ষা চালিয়ে ম্যাপিংয়ের কাজ হবে।’ জানা গিয়েছে, নিরলসভাবে কাজ করায় ২০২৩-এর তুলনায় ২০২৪ সালে রাজ্যের পুর এলাকায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ কমানো গিয়েছে ৮৪ শতাংশ। পরের বছর আরও ১৩ শতাংশ কমেছে। তবে বিধাননগর, হাওড়া, আসানসোল, দুর্গাপুর, শ্রীরামপুর, দক্ষিণ দমদম, মধ্যমগ্রাম, অশোকনগর, হাবড়া, কামারহাটি, রাজপুর সোনারপুর, এবং হুগলি-চুঁচুড়ার মতো ১২টি পুরএলাকা চিন্তায় রেখেছে। রাজ্যের বিভিন্ন পুর এলাকায় ডেঙ্গু নিয়ে সমীক্ষার জন্য ৩৪ হাজার ৩০০ জনকে নিযুক্ত করা হয়েছিল। এই সমীক্ষকদের মধ্যে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে কে কতটা ওয়াকিবহাল, তা মূল্যায়ন করা হচ্ছে। যদি কারও দুর্বলতা চিহ্নিত হয়, তাহলে তাঁকে ফের প্রশিক্ষণ দিয়ে তৈরি করা হবে। এছাড়াও রাজ্যের ১২৮টি পুর এলাকায় ৬৬ হাজার স্পটকে আবর্জনা যুক্ত ঝুঁকিপূর্ণ স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই জায়গাগুলি দ্রুত আবর্জনা মুক্ত করা হবে।
শুক্রবার ডেঙ্গু নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। তিনি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা থেকে শুরু করে ডেঙ্গু দমনে প্রয়োজনীয় প্রতিটি কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন। নির্মীয়মাণ বাড়ি, সরকারি আবাসন ইত্যাদি এলাকায় বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে। পুর এলাকা ছাড়াও গ্রামীণ এলাকাতেও যাতে ডেঙ্গুর বাড়বাড়ন্ত না হয়, সেদিকেও গুরুত্ব আরোপের নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন।