


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: শুক্রবার ভোররাতে হাওড়ার বালির নিবেদিতা টোলওয়েতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে কাপড় বোঝাই একটি চারচাকা পিকআপ ভ্যান। ভ্যানের ওপরে বসে থাকা ছ’জন প্রায় চল্লিশ ফুট উঁচু টোলওয়ের রেলিং পেরিয়ে ছিটকে পড়ে নিচের রাস্তায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে চারজনের। মৃতদের নাম, মহম্মদ কবির আট্টা (২৫), কাইয়াম আট্টা (৫০), আলিল মন্ডল (৪৩) ও প্রশান্ত পাল (৪৭)। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন রাকেশ সাহা (২৮) ও শিবম সাহা (২৫) নামের দুই যুবক। মৃতদের মধ্যে কাইয়াম আট্টা এবং কবির আট্টা সম্পর্কে বাবা-ছেলে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, টোলওয়ের ওপর আচমকাই ওভারলোডেড পিকআপ ভ্যানটির পেছনের একটি চাকা ফেটে যায়। গাড়িটি ডানদিকে রেলিংয়ের দিকে ঘুরে যেতেই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর থেকে অঙ্কুরহাটির হাটে যাচ্ছিল পিকআপ ভ্যানটি। ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ গাড়িটি নিবেদিতা সেতু অতিক্রম করে টোলওয়ের ডানদিকের লেন ধরে লালবাড়ি আন্ডারপাশের দিকে নামছিল। মহিলাদের বিভিন্ন ধরনের কাপড় বস্তাবন্দি করে বোঝাই করা ছিল গাড়ির পেছনে। দড়িবাঁধা কাপড়ের স্তুপের উপরেই বসেছিলেন ৬ জন। অতিরিক্ত মাল বোঝাইয়ের কারণে নিচের দিকে নামার সময় ভ্যানের গতি কমানোর আপ্রাণ চেষ্টা করলেও নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেননি চালক। আচমকাই পেছনে ডানদিকের চাকাটি বিকট শব্দে ফেটে যায়। রেলিংয়ের কাছে এসে ঝুঁকে পড়ে গাড়িটি। আর তখনই কাপড়ের স্তুপের উপর বসে থাকা ছ’জন প্রায় ৪০ ফুট নীচে পঞ্চাননতলা রোডে গিয়ে ছিটকে পড়েন। ছুটে আসেন পথচলতি কয়েকজন। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় বালি থানায়। রক্তাক্ত অবস্থায় সবাইকে নিয়ে যাওয়া হয় উত্তরপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকেরা চারজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা একজনকে হাওড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অপরজনকে প্রথমে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও পরে আর জি করে স্থানান্তর করা হয়। আহতরা এখনও মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন বলে জানা গিয়েছে।
অশোকনগর, হাবরা সহ উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হওয়া মহিলাদের পোশাক প্রতি শুক্রবার অঙ্কুরহাটিতে নিয়ে আসা হয় পিকআপ ভ্যানে চাপিয়ে। স্থানীয়দের দাবি, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গাড়িগুলোতে অতিরিক্ত সামগ্রী বোঝাই করা থাকে। ফলে হাইওয়েতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় মৃত চারজনের দেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। হাওড়া সিটি পুলিসের এক কর্তা বলেন, ‘হাইওয়ে, স্টেট ওয়েগুলোতে ওভারলোডেড গাড়ির উপর সবসময় নজরদারি চালানো হয়। এদিনের দুর্ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’