


অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: তিনি মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। এদিকে, নিজের তিন ছেলে এবং এক পুত্রবধূকে চাকরি দিয়েছেন নিজের কর্মস্থলেই। এমনই অভিযোগে উত্তাল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ডহারবারের নেত্রা মডেল হাইমাদ্রাসা। শুধু তাই নয়, মাদ্রাসার জমি বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এই ধরনের
বিচিত্র এবং গুরুতর অভিযোগের প্রক্ষিতে বৃহস্পতিবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হায়দার আলি বৈদ্য এবং পরিচালন কমিটির সম্পাদক হাবিব গাজিকে শুনানিতে ডেকে পাঠিয়েছিল মাদ্রাসা সার্ভিস পর্ষদ। সভাপতি
শেখ আবু তাহের কামরুদ্দিন জানিয়েছেন, কাগজপত্র নেওয়া
হয়েছে। অর্ডার জারির আগে কিছু বলা যাবে না। তবে কিছু অভিযোগের প্রাথমিক প্রমাণ যে মিলেছে, তা স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি।
শিক্ষক এবং অভিভাবকদের অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাঁর বড় ছেলেকে স্কুলে বৃত্তিমূলক শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ করেছেন। মেজো ছেলেকে আইসিটি শিক্ষক এবং ছোট ছেলেকে হস্টেলের কর্মবন্ধু পদে নিয়োগ করেন। এখানেই শেষ নয়, পুত্রবধূকে হস্টেলের কেয়ারটেকারের পদও দেওয়া হয়েছে। পদগুলি অস্থায়ী হলেও এঁরা কেউই প্রায়শ কাজে আসেন না বলে অভিযোগ। তবে সরকারের কাছ থেকে নিয়মিত বেতন পেয়ে যাচ্ছেন। গোটা পরিবারকে এভাবে নিজের কর্মস্থলে চাকরি দেওয়ার নজির বিরল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এই মাদ্রাসায় ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ১৬০০। জমিজমাও প্রচুর। তার থেকেই দু’-আড়াই বিঘা জমি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। সেই টাকা কোথায় গিয়েছে, প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকরা। এছাড়াও ছাত্রছাত্রীদের জিমন্যাশিয়াম, কম্পিউটার, স্মার্টক্লাস এবং ওয়াটার পিউরিফায়ার খাতে লক্ষ লক্ষ টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ এতটাই গুরুতর যে সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষাদপ্তরের প্রতিমন্ত্রী তাজমুল হোসেন মাদ্রাসা শিক্ষা ডিরেক্টরেট এবং মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদের কর্তাদের সেখানে সরেজমিনে ঘুরে আসার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে তাঁরা নিজেরাই সবকিছু দেখেছেন। তার পরই এদিন শুনানিতে ডেকে পাঠানো হয়েছিল তাঁদের। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য হায়দার আলি বৈদ্যকে ফোন করা হলে তিনি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে চাননি। অভিযোগগুলি সত্যি কি না, সেই হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজেরও কোনও জবাব দেননি তিনি।