


মুম্বই: ট্রেনে বাদুড়ঝোলা ভিড়। আর সেই ভিড়ের চাপে চলন্ত লোকাল ট্রেন থেকে পড়ে মৃত্যু হল চার যাত্রীর। তাঁদের মধ্যে একজন জিআরপি কনস্টেবলও রয়েছেন। গুরুতর জখম আরও ছ’জন। সপ্তাহের প্রথম কাজের দিনে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সাক্ষী মুম্বই। সোমবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের থানে জেলায়। দিভা ও কোপার স্টেশনের মধ্যে। রেলের যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে আরও একবার প্রশ্ন তুলে দিল এই দুর্ঘটনা। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। দুর্ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন উপ মুখ্যমন্ত্রী একনাথ সিন্ধে। রাজ্য সরকারের তরফে মৃতদের পরিবার ও আহতদের আর্থিক সাহায্য করা হবে বলেও জানান তিনি।
জানা গিয়েছে, কাসারাগামী ট্রেনটি স্টেশনে ঢোকার আগে একটা জায়গায় বাঁক নেয়। সেই সময়ে যাঁরা দরজায় ঝুলছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্তত ১০ জন টাল সামলাতে না পেরে ট্রেন থেকে পড়ে যান। সেই সময়ে পাশের লাইন দিয়ে উল্টোদিকে যাচ্ছিল লখনউগামী পুষ্পক এক্সপ্রেস। তখনই দুর্ঘটনা ঘটে। কাসারাগামী ট্রেনের গার্ড সকাল সাড়ে ন’টা নাগাদ বিষয়টি কন্ট্রোল রুমে জানান। খবর পাওয়া মাত্র ঘটনাস্থলে পৌঁছয় উদ্ধারকারী টিম। সকাল ৯টা ৫০ মিনিটের মধ্যে তাঁদের উদ্ধার করে স্থানীয় শিবাজি হাসপাতাল ও থানে জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা চারজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। জখম ছ’জনের মধ্যে চারজন পুরুষ ও দু’জন মহিলা। কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রেলের আধিকারিকরা।
দুর্ঘটনার কারণ ঘিরে উঠে এসেছে অপর একটি সম্ভাবনাও। সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, কাসারাগামী ট্রেনের পাশাপাশি পুষ্পক এক্সপ্রেসের দরজাতেও যাত্রীদের ভিড় ছিল। বাঁকের কাছে দুই ট্রেনের যাত্রীদের পিঠের ব্যাগের ধাক্কায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বেশ কয়েকজন পড়ে যান। গোটা ঘটনাটিকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে মন্তব্য করে শহরতলির রেল ব্যবস্থা ও যাত্রী নিরাপত্তায় জোর দেওয়া প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন অপর উপ মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার।
মধ্য রেল অবশ্য একপ্রকার ঘটনার দায় এড়িয়েছে। তাদের দাবি, বসার জায়গা থাকলেও ট্রেনে ঝুলে যেতে পছন্দ করেন যাত্রীদের একাংশ। ট্রেনের ভিতর সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে। মধ্য রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক স্বপ্নীল নীলা জানিয়েছেন, আটজনকে ট্রেনলাইন থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।