Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গ্রামীণ হাওড়ায় মোবাইল মেডিকেল ইউনিট, গ্রামীণ হাওড়ায় মোবাইল মেডিকেল ইউনিট প্রসূতি ও শিশু চিকিৎসায় বড়ো সাফল্য

স্বাস্থ্যবন্ধু প্রকল্পে মোবাইল মেডিকেল ইউনিট পরিষেবায় অভাবনীয় সাড়া গ্রামীণ হাওড়ায়।

গ্রামীণ হাওড়ায় মোবাইল মেডিকেল ইউনিট, গ্রামীণ হাওড়ায় মোবাইল মেডিকেল ইউনিট প্রসূতি ও শিশু চিকিৎসায় বড়ো সাফল্য
  • ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৬:০২
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: স্বাস্থ্যবন্ধু প্রকল্পে মোবাইল মেডিকেল ইউনিট পরিষেবায় অভাবনীয় সাড়া গ্রামীণ হাওড়ায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে চালু এই প্রকল্প এখন জেলার প্রান্তিক গ্রামগুলির ক্ষেত্রে কার্যত ‘দুয়ারে হাসপাতাল’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একাধিক ব্লকে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসছেন বহু মানুষ। সে সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে। বর্তমানে ব্লকভিত্তিক ১০টি মোবাইল মেডিকেল ইউনিট জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরছে। স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে খবর, দ্রুত বাকি চারটি ব্লকেও একটি করে ভ্যান চালুর পরিকল্পনা আছে। তা হলে এই জেলার সবক’টি ব্লক এই পরিষেবার আওতায় চলে আসবে।

Advertisement

জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক কিশলয় দত্ত জানান, প্রসূতি, শিশু স্বাস্থ্য, নিউরোলজি এবং চোখের অসুখের চিকিৎসায় ভিড় বেশি হচ্ছে। আমতা ২, বাগনান ১, শ্যামপুর ১, ডোমজুড় ও জগৎবল্লভপুর ব্লকে প্রতিদিন গড়ে ৪০০ রোগী চিকিৎসা পাচ্ছেন। জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের মতে এ উৎসাহ নজিরবিহীন। প্রতিটি মোবাইল ইউনিটে রয়েছে অত্যাধুনিক এক্স রে মেশিন এবং ৩৯ ধরনের রক্তপরীক্ষার সুবিধা। শিশু ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ, চক্ষু বিশেষজ্ঞ, নিউরোলজিস্ট ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞরা নির্দিষ্ট সূচি মেনে পরিষেবা দিচ্ছেন। ভ্যানে থাকছেন আশাকর্মী ও প্রশিক্ষিত এক্স রে টেকনিশিয়ান। শীঘ্রই আলট্রাসোনোগ্রাফি পরিষেবাও যুক্ত হবে। তা বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলাদের পক্ষে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্য আধিকারিকদের মতে, আশাকর্মীদের লাগাতার প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শ্যামপুর, আমতা, বাগনান ও উলুবেড়িয়ার প্রত্যন্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই প্রসূতি ও নবজাতকের চিকিৎসায় নানা প্রতিবন্ধকতা ছিল। সামাজিক কুসংস্কার, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে অনীহা ইত্যাদি কারণে অনেক ক্ষেত্রেই সময়মতো চিকিৎসা মিলত না। মোবাইল মেডিকেল ইউনিট সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। বাড়ির কাছেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও অত্যাধুনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা পাওয়ায় গর্ভবতী মহিলারা নিয়মিত চেক আপ করাচ্ছেন। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা দ্রুত চিহ্নিত হচ্ছে এবং প্রয়োজন মতো রেফার করা যাচ্ছে। ইনস্টিটিউশনাল ডেলিভারির গুরুত্ব বোঝাতে এবং সদ্যোজাতের সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করতে এই ইউনিটগুলি বড় ভূমিকা নিচ্ছে। ফলে গ্রামীণ হাওড়ায় প্রসূতি ও শিশু চিকিৎসায় বড় পরিবর্তন আসছে। মাতৃ ও শিশু মৃত্যু কমানোর লক্ষ্যে এই উদ্যোগ হয়ে উঠেছে কার্যকর হাতিয়ার।

সম্পর্কিত সংবাদ