


দুবাই: ‘অপারেশন এপিক ফিউরি চলতে পারে আরও অন্তত চার সপ্তাহ!’ রবিবারই ‘খামেনেই-খতম’ নিয়ে ব্যঙ্গ করে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ইরানের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার বিষয়েও। কিন্তু তেহরান নিজের অবস্থানে অনড়। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের হত্যার বদলা নিতে রবিবার রাত থেকেই শুরু হয়েছে একের পর এক মিসাইল এবং ড্রোন হামলা! ইরান একা নয়, সঙ্গে রয়েছে লেবাননের হিজবুল্লার মতো বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীও। যুদ্ধের চতুর্থ দিনে সেই প্রত্যাঘাতে ইজরায়েল তো বটেই, কাঁপছে গোটা আরব দুনিয়া। ইরাক, কুয়েত, জর্ডন, বাহরিন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সৌদি আরব, এমনকি ওমানেও আছড়ে পড়েছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র। প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে টার্গেট মার্কিন ঘাঁটিগুলি। মারা গিয়েছেন আমেরিকার চার সেনা আধিকারিক। এদিন সাতসকালে কুয়েতে ভেঙে পড়ে তিনটি মার্কিন যুদ্ধবিমান। তবে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ভুলবশত কুয়েতি এয়ার ডিফেন্স ফোর্স ধ্বংস করেছে ওই মার্কিন এফ-১৫ই ফাইটার জেটগুলিকে। তবে ছ’জন ক্রু অক্ষত রয়েছেন। তবে কুয়েতে মার্কিন দূতাবাসে আগুন জ্বলতে দেখা গিয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার ‘সেফ হেভেন’ দুবাই বিমানবন্দরও বিপর্যস্ত। সাইপ্রাসে ব্রিটিশ সেনাঘাঁটিকেও নিশানা করেছিল দুটি ড্রোন। তবে হামলার আগেই সেগুলিকে নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হয়েছে।
তবে এদিনের যে ঘটনা গোটা বিশ্বকে আতঙ্কিত করে তুলেছে, তা হল— সৌদির রাস টানুরায় আরামকোর তেল শোধনাগারে ইরানের দু-দুটি ড্রোন হামলা। পশ্চিম এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ রিফাইনারিটিতে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ ব্যারেল তেল পরিশোধিত হয়। আপাতত সেটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেদেশের সরকার। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ভিডিওতে পরিশোধনাগার থেকে কালো পুরু ধোঁয়া নির্গত হতে দেখা গিয়েছে। ওমান উপসাগরে একটি তেলের ট্যাঙ্কারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বোমা বহনকারী ড্রোনবোটে। মৃত্যু হয়েছে এক ভারতীয় নাবিকের। একে হরমুজ প্রণালীতে ট্যাঙ্কার যাতায়াত বিঘ্নিত। তার উপর এই দুই ঘটনায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দর চড়চড়িয়ে ঊর্ধ্বগামী। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে প্রায় ৯ শতাংশ। যুদ্ধ শুরুর পর গ্যাস উত্পাদন বন্ধ করেছে কাতার। তাতে ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দর লাফ দিয়েছে ৪০ শতাংশেরও বেশি। ফলে আশঙ্কা বাড়ছে ভারতেও।
এদিন দুপুরে তেহরানে একাধিক এয়ারস্ট্রাইক হয়েছে। সেদেশের পরমাণুকেন্দ্রগুলিতে এদিন হামলার খবর সামনে এসেছে। মারা গিয়েছেন খামেনেই-পত্নীও। গত চারদিনে ইরানে মৃত্যুর সংখ্যা ৫৫৫ পেরিয়েছে। তেহরান-হিজবুল্লার পালটা হামলায় ইজরায়েলে মারা গিয়েছেন ১১ জন। এদিন থেকেই হিজবুল্লাকে টার্গেট করেছে তেল আভিভ। তাদের মিসাইলে ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে লেবাননে। হুমকি এসেছে পেন্টাগনের তরফেও— ‘এই যুদ্ধ অনন্তকাল চলবে না!’