


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: জমি দখলে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাকে ধরতে গিয়ে আক্রান্ত হয় ন্যাজাট থানার পুলিশ। সন্দেশখালিতে গত শুক্রবারের এই ঘটনায় ওইদিন রাতেই ন’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে মূল অভিযুক্ত মুসা মোল্লা পলাতক। রবিবার রাতে তাঁর দাদা এবং দুই ভাইপোকে পাকড়াও করল পুলিশ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলা থেকে তাঁদের ধরা হয়। ধৃতদের নাম মুর্তাজা মোল্লা এবং তাঁর দুই ছেলে মোন্তাজুল মোল্লা ও মনোয়ার হোসেন মোল্লা। এই ঘটনায় সব মিলিয়ে গ্রেপ্তার বেড়ে হল ১২ জন।
পুলিশের দাবি, রবিবার রাতে ধৃত তিনজন শুক্রবার পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুরের পাশাপাশি মুসাকে পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিল। পরে, তাঁকে এলাকা ছাড়তেও সাহায্য করেছিল তারা। প্রথম দফায় ধৃত ন’জনকে জেরা করে এই তিনজনের নাম পেয়েছিল ন্যাজাট থানার পুলিশ। অবশেষে তাদের ফোনের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে রবিবার এই তিনজনকে ধরা হয়।
একসময় আইজুল গাজি নামে একজনের চার বিঘা জমিতে ধানচাষ করতেন শাহজাহানের সাগরেদ মুসা। পুলিশ অভিযোগ পেয়েছে, চাষের জমিকেই ভেড়ি বানান তিনি। আইজুলের জমি জোর করে নিজের নামেও করে নেন তিনি। ভেড়ির মাছের টাকাও দেওয়া হত না আইজুলকে। এনিয়ে আইজুল ও মুসার মধ্যে জোর বিবাদ চলছিল।
বিষয়টি নিয়ে মামলাও হয় বসিরহাট আদালতে। জারি হয় ১৪৪ ধারা। কিন্তু মুসা তা মানছিলেন না। একাধিক নোটিস পাঠিয়ে হাজিরা দিতে বলা হয় মুসাকে। মুসা সেটাও এড়িয়ে যান। পুলিশ সূত্রের খবর, শুক্রবার মুসাকে ধরতে যায় পুলিশ। তাতে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় ন্যাজাট থানার অন্তর্গত বাসন্তী হাইওয়ের চুঁচুড়া মোড়।
পরিকল্পিতভাবে পুলিশকে আক্রমণের পাশাপাশি পুলিশ গাড়ি ভাঙচুরেরও অভিযোগ ওঠে শাহাজাহানের স্যাঙাতদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার রাতে ন’জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তদন্তে নেমে রবিবার রাতে জীবনতলা এলাকা থেকে আরও তিনজনকে ধরা হয়েছে। তবে মূল অভিযুক্ত মুসা এই লেখা পর্যন্ত পলাতক। সোমবার বসিরহাট আদালত ধৃতদের আটদিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।