


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এক-একটি যন্ত্রের দাম তিন-সাড়ে তিন লক্ষ টাকা। সবচেয়ে দামি যন্ত্রটির দাম পড়ে প্রায় সাড়ে ৮ লক্ষ টাকা। সেই যন্ত্রই আর আহমেদ ডেন্টাল কলেজের জন্য কেনা হল ১৫ লক্ষ টাকা দিয়ে! দাঁতের চিকিৎসার জন্য কেনা এই বিশেষ যন্ত্র কেনায় দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়ল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, যন্ত্রপাতি কেনাকাটা নিয়ে রাজ্যের এক নম্বর ডেন্টাল কলেজে দুর্নীতি চলছে। নির্দিষ্ট একটি সংস্থাকে বছরের পর বছর বরাত পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে। বাকিদের টেন্ডারে অংশগ্রহণের সুযোগই দেওয়া হচ্ছে না। বাজারদরের থেকে অনেক বেশি দামে যন্ত্র কেনা হচ্ছে।
কিন্তু আর আহমেদ ডেন্টাল কলেজ তো আর যন্ত্র কেনে না। কেনে স্বাস্থ্যদপ্তর। কী ধরনের যন্ত্র, ক’টি কেনা দরকার, কখন প্রয়োজন, সেগুলির বৈশিষ্ট্য বা স্পেসিফিকেশন কী হওয়া উচিত, হাসপাতাল বা সংশ্লিষ্ট ইনস্টিটিউট বড়জোর এই সমস্ত বিষয় জানাতে পারে। দপ্তরের যন্ত্রপাতি কেনাকাটা ও নির্মাণ সংক্রান্ত বিষয় দেখে স্বাস্থ্যভবনস্থিত সংস্থা ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল সার্ভিস কর্পোরেশন। ‘কনশাস সিডেশন মেশিন’ নামে রোগীকে আচ্ছন্ন করবার এই যন্ত্রটি কেনার সময় তারা কী করছিল? কোনও অসামঞ্জস্য তাদের চোখে পড়েনি? আর আহমেদ ডেন্টাল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ তপন গিরি ফোন ধরেননি। স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মনে হয় না এমন কিছু হয়েছে। অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতও হতে পারে। তাও খোঁজখবর করব।’
সূত্রের খবর, জুনের প্রথমদিকে আর আহমেদ ডেন্টাল কলেজের পুরনো বাড়ির দোতলায় শিশুদের দন্ত চিকিৎসা বিভাগে (পেডোডনটিকস ও প্রিভেনটিভ ডেন্টিস্ট্রি) দু’টি এমন কনশাস সিডেশন মেশিন আসে। শিশু দন্তরোগ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বহু বাচ্চাই দাঁতের প্রসিডিওর করার সময় ছটফট করে। ভয়ে চিকিৎসা করতে দিতেই চায় না। যন্ত্রণার আশঙ্কায় উৎকন্ঠা-উদ্বেগে ভোগেন বহু প্রাপ্তবয়স্কও। সেই জন্যই দরকার পড়ে যন্ত্রটির। এর মাধ্যমে ৩-৫ মিনিটের মধ্যেই রোগীকে আচ্ছন্ন করে ফেলা সম্ভব। তারপর নিশ্চিন্তে ফিলিং, রুট ক্যানেল, ইমপ্ল্যান্ট সহ যাবতীয় প্রসিডিওর করা সম্ভব। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বাজারে এই যন্ত্রের দাম ৩ লক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে ৮ লক্ষ টাকা। অভিযোগ, সেখানে স্বাস্থ্যভবনের তরফে এমন দু’টি যন্ত্র কেনা হয়েছে মোট ৩১ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকায় (প্রতিটির দাম ১৫ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা করে)।