শ্রীনগর: রাস্তায় দাঁড়িয়ে ট্রাক। সামনের অংশটুকুই দেখা যাচ্ছে। বাকিটা পাথরে ঢাকা। হড়পা বান ও ভূমিধসের জেরে এমনই বিধ্বস্ত অবস্থা জম্মু কাশ্মীরের একটা বড় অংশে। রাস্তাজুড়ে বড় বড় পাথর। বিপর্যস্ত যান চলাচল। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রামবন জেলা। রবিবারের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে সেখানে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। বিদ্যুৎও নেই জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায়। রাতভর প্রবল বৃষ্টির কারণে এদিন হড়পা বান নামে রামবনে। প্রবল জলস্রোত ভাসিয়ে দেয় ধর্মকুণ্ড গ্রাম। এই ঘটনায় কমপক্ষে ৪০টি বাড়ি ভেঙে পড়েছে। আটকে পড়া ১০০ জনকে উদ্ধার করেছে পুলিস।
চলতি দুর্যোগে রবি কুমারের দুটি দোকানই ভেসে গিয়েছে। জীবনধারনের সম্বল হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন রবি।অসহায় গলায় তিনি বলেছেন, ‘একরাতে সব সাফ হয়ে গেল। জানি না কার কাছে গিয়ে সাহায্য চাইব। সংসার চালানোর অবলম্বনটুকু চলে গেল।
জমি নেই, দোকান নেই। সরকারের কাছে অনুরোধ, আমাদের সাহায্য করুন।’ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে মৃত্যুতে দুঃখপ্রকাশ করেছেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। এক্স হ্যান্ডলে ওমর লেখেন, ‘স্থানীয় প্রশাসনের
সঙ্গে আমরা যোগাযোগ রাখছি। ত্রাণ ও উদ্ধারের কাজকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।’
জম্মু ও কাশ্মীরের বেশ কিছু অঞ্চলে গত দু’দিন থেকেই বৃষ্টি চলছে। সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া। উধমপুরের সাতেনি পঞ্চায়েতের প্রাক্তন সরপঞ্চ গত দু’দিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন। রবিবার তিনি বলেন, ‘বেশ কয়েকটি গাছ উপড়ে পড়েছে। গোটা এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন। ৪-৫ বছর পরে এলাকায় এমন ঝড় হল।’ পশ্চিমী ঝঞ্ঝার জেরেই এই দুর্যোগ বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় সড়কের উপর অন্তত ১০-১২টি জায়গায় ধস নেমেছে। এর জেরে যান চলাচল বন্ধ করে দিতে হয়। হড়পা বানের তোড়ে বেশ কয়েকটি গাড়ি ভেসে গিয়েছে বলে পরিবহণ দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। দুর্যোগ অব্যাহত থাকায় জাতীয় সড়কের উভয় দিক থেকে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন।
বিপর্যস্ত জম্মুও। ভেঙে পড়েছে সিভিল সেক্রেটারিয়েটের প্রাচীর। তার দিয়ে অস্থায়ী প্রাচীর তৈরি করতে হয়েছে। প্রাচীর ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পার্কিংয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বহু গাড়ি। জেসিবি দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে প্রশাসন।