নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: বীরভূম জেলায় ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে যে নজিরবিহীন জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা মেটাতে এবার কোমর বেঁধে নামল কমিশন। জেলার ২ লক্ষ ২ হাজার ৪৯ জন ‘বিবেচানধীন’ ভোটারের নথিপত্রর বৈধতা যাচাইয়ের জন্য ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ড থেকে আরও ২৮ জন বিচারককে আনা হচ্ছে। আজ সোমবার থেকেই তাঁদের কাজে যোগ দেওয়ার কথা। এর ফলে বীরভূমে এই কাজের জন্য নিযুক্ত বিচারকের সংখ্যা ১১ থেকে বেড়ে হচ্ছে ৩৯। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কাজের গতি বাড়াতেই এই সিদ্ধান্ত। তবে ৩৯ জন বিচারক দিয়েও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক নথি যাচাই সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশাসনিক মহলের সংশয় কাটছে না। বর্তমানে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সংঘাতের জেরে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। শীর্ষ আদালতের নির্দেশে বিচারকরা এখন ভোটারদের তথ্য খতিয়ে দেখছেন। সারা রাজ্যে প্রায় ৬০ লক্ষ ‘বিবেচনাধীন’ নাম থাকলেও শুক্রবার পর্যন্ত মাত্র সাত লক্ষ ভোটারের নথির নিষ্পত্তি সম্ভব হয়েছে বলে কমিশনের তরফে জানা গিয়েছে। বীরভূম জেলার পরিস্থিতি আরও ধোঁয়াশাপূর্ণ। জেলা প্রশাসনের এক উচ্চপদস্থ কর্তা স্বীকার করেছেন, জেলায় ২ লক্ষ ২ হাজার ৪৯ জন ভোটার ‘বিবেচনাধীন’ থাকলেও ঠিক কতজনের নামের নিষ্পত্তি হয়েছে, সেই তথ্য তাঁদের কাছে নেই। কারণ প্রশাসনের নিজস্ব ‘লগ ইন’ থেকে এই তথ্য দেখার সুযোগ নেই। এমনকী দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারকরাও সংবাদমাধ্যমের কাছে এ নিয়ে রা কাড়ছেন না। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণই যথেষ্ট। আদালত জানিয়েছিল, এক একজন বিচার বিভাগীয় আধিকারিক যদি প্রতিদিন ২৫০টি করে ভোটারের নিষ্পত্তি করেন, তাহলেও গোটা প্রক্রিয়া শেষ করতে কমপক্ষে ৮০ দিন সময় লাগবে। বীরভূমের ২ লক্ষের বেশি বিচারাধীন ভোটার থাকায় কাজের গতি নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। বীরভূমে আগে ১১ জন বিচারক ছিলেন, অর্থাৎ এক একজন বিচারককে আস্ত একটি বিধানসভা সামলাতে হচ্ছিল। ২৮ জন নতুন বিচারক আসায় কাজের চাপ কিছুটা কমবে বলে মনে করছে জেলা প্রশাসন। কোন বিচারককে কোন বিধানসভার দায়িত্ব দেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্ত জেলা প্রশাসনই নেবে। এদিকে, ভোটার তালিকায় এই ‘বিবেচনাধীন’ তকমা নিয়ে জেলাজুড়ে ক্ষোভের বারুদ জমছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে ভোটাধিকার হারানোর আতঙ্কে মানুষ সিঁটিয়ে রয়েছেন। সিউড়িতে জেলাশাসকের দপ্তরে প্রতিদিন বহু মানুষ ভিড় করছেন ৬ নম্বর ফর্ম জমা দেওয়ার জন্য। পাসপোর্ট বা জন্ম শংসাপত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথি জমা দিয়েও কেন তাঁদের নাম ‘সন্দেহভাজন’ বা ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় রাখা হল, সেই প্রশ্ন তুলছেন ক্ষুব্ধ নাগরিকরা। উল্লেখ্য, বীরভূমে কেবল ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’-র কারণে ৬ লক্ষের বেশি ভোটারের শুনানি হয়েছিল। এর মধ্যে দু’ লক্ষ ‘বিবেচনাধীন’ ভোটার গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পান কি না, নজর এখন সেদিকেই।



