


সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি; রাজ্যসভার সাংসদদের মোট ২৭ কোটি ৪৮ লক্ষ টাকা বকেয়া আটকে রেখেছে মোদি সরকার! লোকসভার সাংসদরা পেলেও বকেয়ার অর্থ এখনও ব্যাঙ্কে ঢোকেনি রাজ্যসভার সাংসদদের। একলপ্তে প্রত্যেকে পাবেন ১১ লক্ষ ৪ হাজার টাকা। এই ঘটনায় তুমুল ক্ষুব্ধ সংসদের উচ্চকক্ষের সিংহভাগ সাংসদই। সোমবার ২১ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে বাদল অধিবেশন। সেখানে রাজ্যসভার সচিবালয়ের মাধ্যমে এনিয়ে মোদি সরকারের উপর চাপ বাড়ানো হতে পারে বলে খবর।
রাজনৈতিক মহলের মতে, সরকার মুখে মূল্যবৃদ্ধির কথা যতই অস্বীকার করুক, সময়ান্তরে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারিদের ‘মহার্ঘ্যভাতা’র ঘোষণাই জানান দেয়, বাজার কার্যত ‘আগুন’। হিন্দিতে সেই কারণে ডিএ-কে বলা হয়, ‘মেহেঙ্গাই ভাত্তা।’ সেই ধারা বজায় রেখে সাংসদদেরও বেতন বেড়েছে ২৪ শতাংশ। ২০১৮ সালে ৫০ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হয়েছিল ১ লক্ষ টাকা। এখন হয়েছে প্রতি মাসে ১ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা। যদিও এটি স্রেফ বেতন। এছাড়াও কনস্টিটিউয়েন্সি অ্যালাউন্স এবং অফিস অ্যালাউন্স মিলিয়ে সব মিলিয়ে আগে প্রত্যেক মাসে প্রত্যেক সাংসদের স্টেট ব্যাঙ্ক ইন্ডিয়ার অ্যাকাউন্টে যেত ১ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা। এখন তা বেড়ে হয়েছে ২ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকা। এছাড়াও সাংসদরা আগে ডেইলি অ্যালাউন্স হিসেবে সংসদের অধিবেশনে হাজিরার পাশাপাশি সংসদীয় কমিটির বৈঠকে যোগ দিলে পেতেন দু’হাজার টাকা। এখন তা বেড়ে হয়েছে আড়াই হাজার টাকা। যদিও এই অঙ্কটি ২ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়।
এই বর্ধিত বেতনের ঘোষণা হয়েছে এবছরের মার্চ মাসে। তবে এই বেতন শুধুমাত্র চলতি বছরের এপ্রিল থেকেই নয়, তার সঙ্গে মিলবে বকেয়াও (এরিয়ার)। কারণ বর্ধিত বেতন কার্যকর হবে ২০২৩ সালের ১ এপ্রিল থেকে। কিন্তু সেই ঘোষণার পরেও মিলছে না দু’বছরের বকেয়া। লোকসভার সাংসদরা গত মে এবং জুন মাসে বকেয়া অর্থ পেয়েছেন। রাজ্যসভার সদস্যরা পাননি। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ অনেকেই। পাশাপাশি, অসন্তুষ্ট সাংসদের পার্সোনাল অ্যাসিট্যন্টরাও (পিএ)। কারণ ‘সাহেব’দের না মিললে, তাঁদের ভাগ্যেও শিকে ছিঁড়ছে না। পিএ’রা পান মাসে ৫০ হাজার টাকা। একজন সাংসদ সর্বোচ্চ চারজন পর্যন্ত ব্যক্তিগত সহকারী রাখতে পারেন। যদিও এক্ষেত্রে মিলবে মোট ওই ৫০ হাজারই। লোকসভা (৫৪৩) এবং রাজ্যসভা (২৪৫) মিলিয়ে মোট ৭৮৮ জন সাংসদ। তাঁদের জন্য প্রতি মাসে সরকারের খরচ ১৮ কোটি ৫৯ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা। নতুন বেতন কাঠামো মোতাবেক গত এপ্রিল থেকে তা দেওয়াও শুরু হয়েছে। বাকি থেকে গিয়েছে বকেয়া। ২৪ মাসের বকেয়া বাবদ সরকারের খরচ ৮৬ কোটি ৯৯ লক্ষ ৫২ হাজার টাকা। এর মধ্যে লোকসভার সাংসদদের বকেয়া মেটানো হয়ে গিয়েছে। বাকি রয়েছে রাজ্যসভার সদস্যরা। ২৪৫ জন সাংসদদের দিতে হবে মোট ২৭ কোটি ৪৮ লক্ষ টাকা। বর্ধিত বেতনের বকেয়া বাবদ ব্যক্তিগত সহকারীদেরও প্রত্যেকের পাওনা ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা। এক্ষেত্রেও লোকসভা সাংসদদের পিএ’রা বকেয়া পেয়ে গেলেও রাজ্যসভার ভাগ্য ঝুলেই। এখনও কবে ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়, সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।