


সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: মঙ্গলবার মালগাড়িতে করে ভিন রাজ্যে আলু যাচ্ছে তারকেশ্বর থেকে। ২১ হাজার টন আলু নিয়ে অসম ও ত্রিপুরার উদ্দেশ্যে রওনা হবে মালবাহী ট্রেন। চলতি মাসে আরও চারদিন তারকেশ্বর থেকে একইভাবে আলু পাঠানো হবে ভিন রাজ্যে। একইভাবে গোঘাট থেকেও মালগাড়িতে করে আলু যাবে ভিন রাজ্যে। আলু রপ্তানি শুরু হওয়ায় আশার আলো দেখছেন চাষিরা।
রাজ্যের অর্থকরী ফসলের মধ্যে আলু অন্যতম। হুগলিতে আলুচাষের পরিমাণ সর্বাধিক। এই বছর বিপুল পরিমাণ ফলন হওয়ায় বাজারে দাম মিলছে না আলুর। অন্যদিকে, হিমঘরে আলু রাখার জায়গা পাচ্ছেন না চাষিরা। এর ফলে অনেকেই এখনও মাঠ থেকে আলু তুলতে পারেননি। ঋণ নিয়ে আলুচাষ করে পর্যাপ্ত দাম না পাওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন চাষিরা। মঙ্গলবার সকাল থেকেই তারকেশ্বর স্টেশনে মালবাহী ট্রেনে আলু তোলা হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা চাষিদের থেকে আলু কিনে সরাসরি অসম ও ত্রিপুরায় পাঠাচ্ছেন। ভিন রাজ্যে আলু পাঠানোর ফলে মাঠে পড়ে থাকা আলু বিক্রির আশা করছেন চাষিরা। তারকেশ্বর ব্লকের সহকারী কৃষি আধিকারিক জয়ন্ত ধর বলেন, ২১ হাজার টন আলু পাঠানো হচ্ছে অসম ও ত্রিপুরায়। আজ, বুধবার ও আগামী ২৬ মার্চ সহ মোট চার দিন একইভাবে ভিন রাজ্যে পৌঁছাবে আলু। স্থানীয় এক চাষি জানান, আলুচাষিরা দুর্দশার মধ্যে পড়েছেন। কোনো বছর আবহাওয়া খারাপ থাকায় ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে, কোনো বছর ফসল ভালো হওয়ায় দাম মেলে না। ভিন রাজ্যে আলু যাচ্ছে শুনে ভালো লাগছে। চলতি মাসে কয়েকটি ধাপে প্রায় ৮০ হাজার টনের বেশি আলু তারকেশ্বর থেকে যাবে বলে শুনেছি। মাঠে বহু আলু পড়ে রয়েছে। একদিকে, বস্তার অত্যধিক দাম, অন্যদিকে হিমঘরে আলু রাখার জায়গা নেই। বাইরে আলু না পাঠালে মাঠের ফসল মাঠেই পচে নষ্ট হবে। বাইরের রাজ্য আলু পাঠানোর ফলে উপকৃত হবেন চাষিরা।
এই বিষয়ে তারকেশ্বরের বিধায়ক রামেন্দু সিংহ রায় বলেন, তারকেশ্বর থেকে যেমন আলু যাচ্ছে, তেমনই গোঘাট থেকেও মালবাহী ট্রেনে ভিন রাজ্যে আলু যাবে।