মুম্বই: স্টুডিওতে পণবন্দি ১৭ শিশু। আগুন লাগিয়ে দেওয়ার হুমকি। পুলিশি অপারেশন। গুলি বিনিময়। শেষ পর্যন্ত নিরাপদে উদ্ধার শিশুদের। বৃহস্পতিবার ভরদুপুরে বাণিজ্যনগরী মুম্বইয়ের পাওয়াইয়ের আরএ স্টুডিওর ঘটনা যেন কোনও সিনেমার চিত্রনাট্য। পুলিশ সূত্রে খবর, পুলিশকে লক্ষ্য করে এয়ারগান থেকে গুলি চালায় অভিযুক্ত রোহিত আর্য। পালটা এক রাউন্ড গুলি চালায় পুলিশও। তাতেই গুরুতর আহত হয় রোহিত। হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালে মৃত্যু হয়েছে তার।
পুলিশ সূত্রে খবর, পাওয়াইয়ের ওই স্টুডিওতে ৮ থেকে ১৫ বছরের শিশুদের ‘অডিশনের’ অছিলায় ডেকেছিল রোহিত। শিশুদের পণবন্দী করবার পর একটি ভিডিও প্রকাশ করে সে। সেখানে সে বলে, ‘আমি রোহিত আর্য। আত্মহত্যার বদলে আমি শিশুদের পণবন্দী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ সূত্রের খবর, মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী দীপক কেসরকারের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিল অভিযুক্ত। দাবি মানা না হলে গোটা স্টুডিওতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয় সে। পাশাপাশি রোহিত ওই ভিডিওতে দাবি করে, কোনও টাকা সে চায় না এবং সন্ত্রাসবাদের সঙ্গেও তার কোনও যোগাযোগ নেই। পুলিশ জানিয়েছে, দমকলের সহায়তায় শিশুদের উদ্ধার করা হয়। দমকল আধিকারিক অভিজিৎ সোনাওয়ানে বলেছেন, ‘আমরা দুপুর তিনটে নাগাদ পুলিশের কাছ থেকে ফোন পাই। ঘটনাস্থলে গিয়ে বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে গ্রিল কেটে পুলিশের ভিতরে ঢোকার বন্দোবস্ত করে দিই। শিশুদের প্রত্যেককে উদ্ধার করে অভিভাবকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।’ পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তের কাছ থেকে একটি এয়ারগান ও রাসায়নিকের ক্যান পাওয়া গিয়েছে। এর আগে রোহিত অভিযোগ করেছিলেন, নিকাশী সংক্রান্ত একটি প্রচার অভিযানের জন্য সরকারের কাছ থেকে টাকা পাওনা রয়েছে তাঁর। রাজ্যের তৎকালীন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাস সত্ত্বেও দু’দফায় মাত্র ১৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে তাঁকে। টাকার জন্য দু’বার অনশনও করেছিলেন তিনি।



