Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কমিশনের স্বীকৃতি ছাড়াই দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ১৫০০ ‘অতিরিক্ত বিএলও’

দুর্বল ও বেশি ভোটারের বুথে ইনিউমারেশন ফর্ম ডিজিটাইজেশনের কাজ দ্রুত শেষ করতে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় অতিরিক্ত বিএলও হিসেবে ১৫০০ জনকে দায়িত্ব দেওয়া হল।

কমিশনের স্বীকৃতি ছাড়াই দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ১৫০০ ‘অতিরিক্ত বিএলও’
  • ২৮ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগণা: দুর্বল ও বেশি ভোটারের বুথে ইনিউমারেশন ফর্ম ডিজিটাইজেশনের কাজ দ্রুত শেষ করতে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় অতিরিক্ত বিএলও হিসেবে ১৫০০ জনকে দায়িত্ব দেওয়া হল। ঘটনা হল, জেলা প্রশাসনের তরফে তাঁদের অতিরিক্ত বিএলও বলা হলেও তাতে স্বীকৃতি দেয়নি নির্বাচন কমিশন। অর্থাৎ তাঁদের আলাদা করে লগইন আইডি দেওয়া হয়নি। ফলে জেলা স্তরে তাঁদের অতিরিক্ত বিএলও বলা হলেও কমিশনের খাতায় তাঁরা বিএলও নন। ফলে বিএলওদের যে ভাতা ও সুবিধা কমিশনের তরফে দেওয়া হয়, তা তাঁরা পাবেন না। 

Advertisement

ইনিউমারেশন ফর্ম ডিজিটাইজেশন প্রক্রিয়ায় গ্রামের তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে শহুরে বিধানসভা কেন্দ্রগুলি। সেই সমস্যা মেটাতেই এই অতিরিক্ত বিএলওদের নিয়োগ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের আশা, কাজটি এভাবেই দ্রুত শেষ করা যাবে। নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা ডিজিটাইজেশনের কাজ ৭০ শতাংশ শেষ করে ফেলেছে। কিন্তু তার মধ্যে একাধিক বিধানসভা আসনের বেশকিছু বুথে ভোটার সংখ্যা অনেকটাই বেশি। পাশাপাশি কিছু বয়স্ক বিএলওর কাজের গতি কম। এদিকে কমিশনের দেওয়া মৌখিক ডেডলাইন এগিয়ে আসছে। তাই কাজ দ্রুত শেষ করাই এখন বড়ো চ্যালেঞ্জ। তার উপর রয়েছে অ্যাপের সমস্যা। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, যেসব বুথে ১২০০ ভোটার, সেখানে অতিরিক্ত একজন করে সহকারী নিয়োগ করা হয়েছে। তবে জেলা প্রশাসন শুধু এই বুথগুলিতেই নয়, দুর্বল বিএলওদের সাহায্য করতেও অতিরিক্ত কর্মীকে দায়িত্ব দিয়েছে। 
কোনও কোনও জায়গায় বিএলওরা ডিজিটাইজেশনের কাজ করছেন বাড়িতে বসে। আর এই অতিরিক্ত নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা সেই বিএলওর হয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পূরণ করা ফর্ম সংগ্রহ করে আনছেন। কিছু জায়গায় আবার উলটোটাও হচ্ছে। অর্থাৎ বিএলওর লগইন ব্যবহার করে ডিজিটাইজেশনের কাজ করছেন তাঁরা। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক ইআরও বলেন, শহরের দিকে অনেক বয়স্ক বিএলও কাজ করছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ মোবাইল ব্যবহারে মোটেই পটু নন। সেসব বুথে ডিজিটাইজেশনের কাজ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। অতিরিক্ত নিয়োগপ্রাপ্তরা এই কাজটি করছেন। 
বর্তমানে জেলার মধ্যে ডিজিটাইজেশনের কাজ ৮০ শতাংশের বেশি শেষ করে ফেলেছে গোসাবা, বাসন্তী, ফলতা ও ক্যানিং পূর্বের মতো বিধানসভা কেন্দ্র। রাজ্যের মধ্যেও তারা একেবারে উপরের দিকে আছে। সেই তুলনায় যাদবপুর, টালিগঞ্জ, কসবা প্রভৃতি বিধানসভা কেন্দ্রে কাজটি এগিয়েছে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশের মতো। বেহালা পূর্ব, পশ্চিম ও মেটিয়াবুরুজ তাদের থেকেও কিছুটা পিছিয়ে।

সম্পর্কিত সংবাদ