


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা: এসআইআর পর্বে এবার শুরু হবে শুনানির প্রক্রিয়া। তাতে নজরদারির জন্য মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগের কথা নির্বাচন কমিশন আগেই জানিয়েছে। তাঁরা কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন অফিসের পদস্থ অফিসার। কিন্তু এই পর্যবেক্ষক কোথায় এবং কতজন থাকবেন, এবার তা ঠিক করা হয়েছে। কমিশন সূত্রের খবর, প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে থাকবেন ১৫ জন করে মাইক্রো অবজার্ভার। তাঁরা শুনানির যাবতীয় কাজে নজরদারি, এমনকি প্রয়োজনে হিয়ারিংয়ে নথিও যাচাই করবেন। অন্যদিকে, এই কাজে ব্যাংককর্মীদের অব্যাহতি দাবি করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই পর্যবেক্ষকদের জেলায় জেলায় পাঠানোর ক্ষেত্রেও নয়া নিয়ম আনছে কমিশন। সূত্রের খবর, সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় সরকারি অফিসারের বাড়ি এবং কর্মস্থলের জেলায় কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হবে না। এমনকি, অফিস ও বাড়ি সংলগ্ন অন্য জেলাতেও নিয়োগ করা যাবে না তাঁদের। যেমন—দক্ষিণ ২৪ পরগনার লাগোয়া জেলা হল হাওড়া, হুগলি, কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনা। যাঁরা এই জেলাগুলিতে কর্মরত অথবা সেখানকার বাসিন্দা, সেইসব অফিসাররা দক্ষিণ ২৪ পরগনায় মাইক্রো অবজার্ভার হবেন না। আরও দূরবর্তী জেলা থেকেই তাঁদের আনা হবে।
এদিকে এসআইআরের ক্ষেত্রে মাইক্রো অবজার্ভার হিসেবে ব্যাংককর্মীদের না-রাখার আবেদন জানানো হয়েছে। এই বিষয়ে স্টেট লেভেল ব্যাংকার্স কমিটিকে (এসএলবিসি) চিঠি দিয়েছে অল ইন্ডিয়া ব্যাংক অফিসার্স কনফেডারেশন। প্রসঙ্গত, ওই কমিটিতে বিভিন্ন ব্যাংকের প্রতিনিধিরা যেমন আছেন, তেমনই রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিত্বও রয়েছে।
সংগঠনটির রাজ্য সম্পাদক শুভজ্যোতি চট্টোপাধ্যায় বলেন, ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের তৃতীয় ত্রৈমাসিকের শেষ লগ্ন। এই সময় ব্যাংকিং সেক্টরে কাজের চাপ যথেষ্ট। যেহেতু অর্থবর্ষ শেষের দিকে, তাই আগামী মাসগুলিতেও সেই চাপ বজায় থাকবে। এদিকে ব্যাংকগুলিতে এমনিতেই কর্মী ও অফিসারের সংকট রয়েছে। এক্ষেত্রে যদি ব্যাংক সংক্রান্ত কাজ ছেড়ে কর্মী ও অফিসারদের অন্য কাজে মন দিতে হয়, তাহলে সংকট সবদিক থেকেই।
সংগঠনের কর্তাদের বক্তব্য, এমনিতেই এইসময় বিভিন্ন টার্গেট ভিত্তিক কাজে মন দিতে হয় কর্মীদের। সেই তালিকায় যেমন রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন আর্থিক প্রকল্প আছে, তেমনই এমএসএমই সেক্টর এবং স্টার্ট আপ সংস্থাকে ঋণ প্রদানের চাপ আছে। সেই কাজগুলি যেমন ব্যাহত হবে, তেমনই গ্রাহক পরিষেবাও অত্যন্ত করুণ হওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা। সংগঠনটি আর্জি জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের স্বার্থেই মাইক্রো অবজার্ভার পদে ব্যাংককর্মীদের রেহাই দেওয়া হোক। এই বিষয়ে যেন এসএলবিসি’র তরফে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়, দাবি তাঁদের।