


সংবাদদাতা, বনগাঁ: কলকাতা পুলিশের কনস্টেবল পদে নিয়োগের পরীক্ষায় নিষিদ্ধ ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস নিয়ে হলে ঢোকা এবং অন্যের হয়ে পরীক্ষা দিতে গিয়ে গ্রেফতার হল বেশ কয়েকজন। ধৃতদের মধ্যে তিন সরকারি চাকরীজীবী রয়েছে। তারা অন্যের হয়ে পরীক্ষা দিতে এসেছিল। পরীক্ষায় জালিয়াতিতে যুক্ত থাকার অভিযোগে আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সব মিলে গ্রেফতারের সংখ্যা ১৫।
গাইঘাটা থানার তরফে ধৃত ১৪ জনকে সোমবার বনগাঁ আদালতে হাজির করলে বিচারক ১০ জনকে জেল হেপাজত ও চারজনকে পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেন। এরা হল বিধান বিশ্বাস, অপূর্বলাল বিশ্বাস, মৃন্ময় হালদার এবং হিরণ বিশ্বাস। এদের মধ্যে তিনজন সরকারি চাকরি করে। ধৃতদের কাছ থেকে বেশ কয়েকটি ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস উদ্ধার করেছে পুলিশ। অন্যদিকে, গোপালনগর থানার পুলিশ পরীক্ষা হলে মোবাইল ফোন নিয়ে ঢোকার অভিযোগে সৌভিক বিশ্বাস নামে এক পরীক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে। নদীয়ার বাসিন্দা ওই ধৃতকে সোমবার বনগাঁ আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচদিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেন।
রবিবার ছিল কলকাতা পুলিশ কনস্টেবল পদের পরীক্ষা। গাইঘাটা থানার ১৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়। এদিন গাইঘাটা হাইস্কুলে পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন নদীয়ার হাঁসখালির বাসিন্দা মৃন্ময় হালদার। পরীক্ষা দিয়ে বেরনোর সময় স্কুল গেট থেকে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃন্ময় সরকারি চাকরিজীবী। সে হাঁসখালির বাসিন্দা হিরণ বিশ্বাসের হয়ে পরীক্ষা দিতে এসেছিল। অন্য কেন্দ্র থেকেও কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে পরীক্ষা কেন্দ্রে ভিতর ও অন্যদের পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে থেকে পাকড়াও করা হয়। ধৃতরা একটি চক্রের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি পরীক্ষায় জালিয়াতি করত। এরা পরীক্ষা কেন্দ্রে ছোট্ট (এলইডি লাইটের মত) একটি ডিভাইস পরীক্ষার্থীদের দিয়ে পৌঁছে দিত। যাতে থাকত মাইক্রোফোন। পরীক্ষা কেন্দ্রের ১০০-২০০ মিটার দূরে অন্য একটি ডিভাইস নিয়ে থাকত অন্য সদস্যরা। এরমধ্যে থাকত মোবাইলের সিম। মূল কেন্দ্র হাঁসখালি থেকে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা হত। হাঁসখালি থেকে নির্দেশ দিলেই পরীক্ষা কেন্দ্র, কেন্দ্রের বাইরে ও মূল কেন্দ্র যুক্ত হয়ে যেত। পরীক্ষা কেন্দ্রের ভিতর থেকে প্রশ্ন ডিভাইসের মাধ্যমে মূলকেন্দ্রে পৌঁছে যেত। সেখান থেকে সঠিক উত্তর পরীক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে যেত বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে। চক্রের সঙ্গে আর কেউ যুক্ত আছে কি না খতিয়ে দেখছে পুলিশ।