


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: প্রায় পক্ষকাল কেটে গিয়েছে। এখনও বেশ কিছু পণ্যের দাম কমল না। তার মধ্যে বিশেষ করে রয়েছে প্যাকেজড ফুড এবং ওষুধ। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে কমেছে জিএসটি। পুরোনো জিএসটি কাঠামোর দু’টি ধাপ বাতিল করা হয়েছে। বলা হয়েছিল ২৮ এবং ১২ শতাংশের জিএসটি কাঠামোর মধ্যে থাকা পণ্যগুলির মধ্যে ৯৯ শতাংশেরই দাম কমে যাবে। কিন্তু বিভিন্ন বাণিজ্য সংগঠনের সমীক্ষা থেকে জানা যাচ্ছে যে, জিএসটি কমে যাওয়ার যে সুফল পাওয়ার কথা ছিল, সেই সুরাহা সিংহভাগ ক্রেতা পাচ্ছে না। প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্য এবং ওষুধের সমীক্ষা রীতিমতো চাঞ্চল্যকর। কারণ, এই দু’টি সেক্টরের ক্ষেত্রে সমীক্ষা রিপোর্ট বলেছে, ১০ জন ক্রেতার মধ্যে গড়ে মাত্র ১ জন ক্রেতা নয়া জিএসটির সুফল পেয়েছে। লোকাল সার্কলস কমিউনিটি সার্ভে সংস্থার রিপোর্ট বলেছে, ৪০ শতাংশ ক্রেতা বলেছে যে, তারা জিএসটি কমে যাওয়ার পূর্ণ সুফল পাচ্ছে। বাকি ৬০ শতাংশ জিএসটি কমে যাওয়ার সুফল পাচ্ছেন না। যারা পাচ্ছে না, তাদের মধ্যে ১৮ শতাংশ বলেছে, আংশিক সুফল পাওয়া যাচ্ছে কিছু কিছু পণ্যে। উৎসবের মরশুমে যে সেক্টরে পণ্যের দাম কমে যাবে ভেবে সাধারণ মানুষ উৎসাহিত হয়েছিল, সেই টেক্সটাইল সেক্টরেও কিন্তু পূর্ণ সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে নন ব্র্যান্ড জামাকাপড়ে বহু ক্ষেত্রেই দাম কমানো হয়নি। শাড়ির দাম কমেনি। নন ব্র্যান্ড কসমেটিকসে দাম কমেনি। ট্রেড অপারেশন মনিটরিং সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ভোগ্যপণ্যের ক্ষেত্রে ১০ জনের মধ্যে মাত্র ৩ জন ক্রেতা বলেছে যে, তারা পূর্ণ সুফল পাচ্ছে। দেশের ৩৪১ জেলায় সমীক্ষা চালিয়েছে লোকাল সার্কলস সংস্থা। তারা সমীক্ষায় বলেছে, গাড়িতে সবথেকে বেশি সুফল মিলছে। ৭০ শতাংশ ক্রেতা বলেছে যে, জিএসটি কমে যাওয়ার প্রথম সপ্তাহ থেকেই তারা নয়া জিএসটি সুবিধা গাড়ির দামে প্রতিফলিত হতে দেখছে। প্যাকেটজাত খাদ্য এবং বেশ কিছু ওষুধেরর জিএসটি ১৮ এবং ১২ শতাংশ থেকে কমে ৫ শতাংশ হয়েছে। সেই সুফল কিন্তু পূর্ণাঙ্গভাবে পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ যে তাৎপর্যপূর্ণ সমীক্ষা উঠে এসেছে সেটি হল, প্যাকেজড ফুড অথবা ওষুধের দোকান যদি কোনও শপিং মল কিংবা বড় ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের মধ্যে হয়, তাহলে তারা নতুন জিএসটির সুবিধা দিচ্ছে। কিন্তু খুচরো বিক্রেতাদের থেকে তুলনামূলকভাবে সুফল কম পাওয়া যাচ্ছে। অথচ দেশে সবথেকে বেশি ক্রেতা নির্ভর করে খুচরো বিক্রেতাদের উপরই। সমীক্ষক সংস্থাকে বহু ক্রেতা জানিয়েছে যে, জিএসটি কমে যাওয়ার পরও কোনও পণ্যের দাম যদি না কমে, তাহলে সেই সংক্রান্ত অভিযোগ কোথায় জানানো যায়, সে সম্পর্কে কোনও ধারণা নেই। অর্থাৎ সরকার যতই ঘোষণা করুক যে, একটি মনিটরিং কমিটি এই বিষয়টিতে নজরদারি চালাবে, সেই কমিটির অস্তিত্বই সাধারণ মানুষ তেমন জানে না।