


ঢাকা: ২০২৪ সালের জুলাই। ছাত্র বিক্ষোভে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু এক বছর পরও পরিস্থিতি সেই তিমিরেই। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জেলা গোপালগঞ্জে বুধবার সংঘর্ষের ঘটনায় চার জনের মৃত্যু হয়। তবে বেসরকারি মতে মৃতের সংখ্যা সাত। এই ঘটনার পর জারি হয়েছে কার্ফু। হিংসার এই ঘটনায় অন্তত ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার পুলিস সূত্রে খবর। এই গোপালগঞ্জেই রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি। কার্ফু জারি হওয়ায় এদিন রাস্তায় টহল দিয়েছে সেনা। এরই মধ্যে হিংসা নিয়ে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস ও তাঁর সমর্থকদের মুণ্ডপাত করেছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইউনুসকে কাঠগড়ায় তুলে তাঁর তোপ, বাংলাদেশের স্বতন্ত্র পরিচিতি ও বঙ্গবন্ধুর সমাধিকে কলুষিত করার ‘বর্বরোচিত ষড়যন্ত্র’ করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে।
গত বছর আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন হাসিনা। তবে গোপালগঞ্জ এখনও হাসিনার দল আওয়ামি লিগের শক্ত ঘাঁটি বলেই পরিচিত। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা গোপালগঞ্জ চলোর ডাক দিয়েছিলেন। পাল্টা বুধবার রাস্তায় নামেন বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামি লিগের ছাত্র সংগঠন ‘ছাত্রলিগে’র সদস্যরা। তাঁরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে থাকেন। হাসিনা সমর্থকদের সঙ্গে সেনা, আধাসেনা ও পুলিসের সংঘর্ষের জেরে গোটা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। গোপালগঞ্জ সদর থানার তদন্তকারী ইনসপেক্টর আবদুল্লা আল মামুন বলেন, যৌথ বাহিনী মোট ১৪ জনকে আমাদের হাতে তুলে দিয়েছে। মামলা দায়ের করার কাজ চলছে।
বুধবারের সংঘর্ষের পর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) আরও চারটি প্ল্যাটুনকে (প্রায় ২০০ জওয়ান) তড়িঘড়ি গোপালগঞ্জে পাঠানো হয়। প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের দপ্তর থেকে বলা হয়, বুধবার রাত ৮টা থেকে ২২ ঘণ্টার জন্য কার্ফু জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির উপর হামলার চক্রান্তকারীদের রেয়াত করা হবে না। বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মহম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখন মোটামুটি স্বাভাবিক। গোয়েন্দা তথ্য ছিল। কিন্তু এত বড় হিংসার ঘটনা ঘটতে পারে, সেই তথ্য ছিল না। অন্যায় যারা করেছে, তা সবাই গ্রেপ্তার হবে। কাউকে ছাড়ার প্রশ্নই ওঠে না।