


শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: মাত্র তিরিশ সেকেন্ড সময়ই যথেষ্ট। মোটর বাইকে যতই কঠিন আর অত্যাধুনিক লক হোক না কেন, ভাঙতে পারদর্শী, দক্ষ! নিজের এই প্রতিভা লাইনে আসতে চাওয়া ‘নব্য’দের মধ্যে ভাগ করে দিতে আবার হাতে কলমে ‘অনস্পট’ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রেখেছিল চক্রের পান্ডা। তালা ভাঙার সেই পারদর্শিতার জোরেই কলকাতা ও দুই ২৪ পরগনার একাধিক জায়গায় গত তিনমাসে ১০০’র বেশি মোটর বাইক চুরি করেছে সে। রীতিমতো ঘুম উড়েছিল বারুইপুর পুলিস জেলার। শেষ পর্যন্ত চক্রের মাথা মইদুল লস্করকে জালে পুরতে সক্ষম হল জীবনতলা থানার পুলিস। ধরা পড়েছে তার শাগরেদ শাহানুর মোল্লাও। চোরাই বাইকগুলি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
বারুইপুর জেলা পুলিস সূত্রে খবর, জীবনতলা, সোনারপুর, ক্যানিং,বাসন্তী মিনাখাঁ, দেগঙ্গা সহ দুই ২৪ পরগনার বিভিন্ন জেলায় বিগত তিন মাসে পরপর বাইক চুরির অভিযোগ আসছিল। তদন্তকারীরা জানতে পারেন পূর্ব কলকাতা,বন্দর এলাকা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা লাগোয়া শহরের বিভিন্ন অংশ থেকেও বাইক উধাও হয়ে গিয়েছে। লোপাট হওয়া বাইকের সংখ্যা ১০০’র বেশি। তদন্তে উঠে আসে, বাইকগুলি চুরি হচ্ছে রাত দেড়টা থেকে ভোর চারটের মধ্যে। যেখান থেকে এগুলি চুরি হচ্ছে, সেখানে কোনও সিসি ক্যামেরা নেই। তাই বাইক চোরের ছবি না মেলায়, তাদের পরিচয় জানতে রীতিমতো কালঘাম ছোটে পুলিসের। বিভিন্ন সময়ে গাড়ি বা বাইক চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তদের সম্পর্কে খোঁজ খবর করতে গিয়ে অফিসাররা জানতে পারেন, এই লাইনের ‘পুরনো ঘুঘু’ মইদুল সহ বেশ কয়েকজন বাইরে রয়েছে। জীবনতলা এলাকার এই গ্যাং বাইক চুরিতে যথেষ্ট দক্ষ। সোর্স মারফত তদন্তকারীরা জানতে পারেন, মইদুল নামে এক অভিযুক্ত জীবনতলা এলাকায় আসবে শাগরেদের সঙ্গে দেখা করতে। সেইমতো টিম সেখানে পৌঁছে তাকে গ্রেপ্তার করে।
জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, মইদুলই চক্রের মুল মাথা। যে কোনও ধরনের বাইকের লক ভাঙতে তার সময় লাগে ৩০ সেকেন্ড। এরজন্য একটা স্ক্রু ড্রাইভারই যথেষ্ট। এর সঙ্গে থাকে সমস্ত ধরনের চাবি। যাতে তাই দিয়ে লক খুলে দেওয়া যায়। পুলিস জানিয়েছে, রাত বারোটা নাগাদ অপারেশনে নামত মইদুল। যে রাস্তায় কোনও সিসি ক্যামেরা নেই, সেই এলাকাকে টার্গেট করত সে। রাস্তায় দাঁড় করানো বাইক চুরির পর, সিসি ক্যামেরা নেই এমন রাস্তা দিয়ে পালাত। গাড়ি জমা রাখত বিভিন্ন জায়গায়। সেখানে নম্বর প্লেট বদলে বিভিন্ন দামে বিক্রি হতো। চুরির বাইক সীমান্তের ওপারেও গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। অভিযুক্তের আইনজীবী সব্যসাচী রায় বলেন, মইদুলের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ এনেছে পুলিস। কিন্তু তার মক্কেলের বিরুদ্ধে ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ মেলেনি।