পুজো শেষ। এদিকে শারদোৎসব শেষ হতে না হতেই শীতের হালকা ছোঁয়া বাংলায়। আর শীতের এই সুন্দর আমেজে মনটা ব্যাকুল হয়ে উঠছে একটু ঘুরে আসার জন্য। এদিকে হাতে যে মাত্র রয়েছে ২থেকে ৩ দিন। তাহলে আর কী, মন খারাপ না করে বেরিয়ে আসা যাক না এই ছোট্টো সময়ের মধ্যে। এইবার বেরিয়ে পরা যাক নিজেদের পরিবার, কাছের মানুষ অথবা বন্ধুদের নিয়ে। কিন্তু কোথায় ঘুরতে যাওয়া যায় এই কম ছুটিতে? দেখে নেওয়া যাক বাংলার মধ্যেই থাকা সুন্দর মনোরম ঘুরতে যাওয়ার কিছু ডেস্টিনেশন।
গড় পঞ্চাকোট: পাহাড়ের সৌন্দর্য, জঙ্গলের শান্ত পরিবেশ সহ বাংলার অতীত ইতিহাসের ছোঁয়া পাওয়া যায় এই জায়গায়। পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলায় অবস্থিত এই ঐতিহাসিক এবং প্রাকৃতিক পর্যটন কেন্দ্র গড় পঞ্চাকোট। আনুমানিক ৯৪০ খ্রিষ্টাব্দে রাজা দামোদর শেখর এই শিখর সিংহ দেও রাজবংশের প্রতিষ্ঠা করেন এবং এটিকে নিজের রাজধানী বানান। এইখানে পঞ্চরত্ন মন্দির, রাজপ্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ, কঙ্কালী মাতার মন্দির, ধারা অর্থাৎ প্রাকৃতিক ঝরনা। পাশাপাশি গড় পঞ্চকোটের খুব কাছেই রয়েছে পাঞ্চেত বাঁধ ও লেক। আসানসোল অথবা আদ্রা স্টেশনে নেমে সেখান থেকে গাড়ি নিয়ে নিমেশেষ আপনারা পৌছে যাবেন এই ডেস্টিনেশনে।
গনগনি: বাংলার ‘গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন’ নামে পরিচিত এই স্থান। বাংলার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতার কাছে অবস্থিত এই অসাধারণ দর্শনীয় জায়গা। শিলাবতী নদীর জলপ্রবাহ, বৃষ্টি ও দীর্ঘদিনের প্রাকৃতিক ক্ষয়ের ফলে এখানে লালচে মাটির ঘভীর খাঁত, উঁচু ঢাল এবং অদ্ভুত সুন্দর ভূমিরূপ তৈরি হয়েছে। এইখানে দেখতে পাবেন লাল মাটির ক্যানিয়ন, শীলাবতী নদীর পাড়। গড়বেতা যাওয়ার ট্রেন ধরুন প্রথমে। এরপর সেইখান থেকে গাড়ি নিয়ে পৌঁছে যাওয়া যান এই সুন্দর জায়গায়।
বাঁকিপুট: সমুদ্র মানে আমরা বুঝি দীঘা, মন্দারমণি ,পুরী। এইসব জনপ্রিয় জায়গা ছাড়াও শান্ত, অফবিট সমুদ্রতীরবর্তী একটি সুন্দর স্থান এই বাঁকিপুট। পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথির কাছে অবস্থিত এই জায়গা। এই স্পটের মূল আকর্ষন হল ঝাড়বন, নিরিবিলি পরিবেশ। এইখানে আপনারা উপভোঁগ করতে পারবেন সমুদ্র, দারিয়াপুর লাইটহাউস, পেটুয়াঘাট ফিশিং হারবার, কপালকুণ্ডলা মন্দির। কাঁথি স্টেশন পৌঁছে টোটো বা অটো নিয়ে চলে যান এই ডেস্টিনেশনে।
বড়ন্তি: পুরুলিয়া জেলার রঘুনাথপুর মহকুমার সাঁতুড়ি ব্লকে অবস্থিত এই সুন্দর অফবিট আদিবাসী গ্রাম। একদিকে জলাধার অপরদিকে ছোটো ছোটো পাহাড় এবং সবুজ জঙ্গল এই প্রকৃতিক পরিবেশই বড়ন্তির প্রধান আকর্ষণ। লেকের ধারে সূর্যাস্ত, শীতে পরিযায়ী পাখি আর বসন্তের পলাশ ফুল দেখতে আসেন পর্যটকরা। পাশাপাশি বড়ন্তির খুব কাছে আপনারা দেখতে পাবেন জয়চণ্ডী পাহাড়, বিহারীনাথ পাহাড় ও মন্দির, মাইথন বাঁধ ও কল্যাণেশ্বরী মন্দির। আসানসোল বা আদ্রাগামী যেকোনো ট্রেনে উঠে মুরাডি স্টেশনে নামতে হবে। এরপর স্টেশন থেকে একটি গাড়ি নিয়ে পৌঁছে যান বড়ন্তিতে।
জয়পুর বন: পশ্চিবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার বৃষ্ণুপুরের কাছে অবস্থিত সুন্দর এই জয়পুর বন। ঘন গাছপালা, লাল মাটির রাস্তা, নিরিবিলি প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য জায়গাটি পরিচিতি। শাল, সেগুন, পলাশ, মহুয়া এবং নিম গাছ দিয়ে এই জঙ্গলটি পূর্ণ। বসন্তকালে পলাশ ফুলের রঙে পুরো জঙ্গল সেজে ওঠে। এখানে হরিণ, হাতি, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি এবং বন্যপ্রাণী দেখতে পায় পর্যটকরা। এছাড়াও আপনারা এখানে দেখতে পাবেন ওয়াচ টাওয়ার, ধল সমুদ্র জলাশয়। প্রথমে বিষ্ণুপুর স্টেশনে নেমে টোটো, অটো ধরে পৌঁছে যেতে পারবেন এই মনোরম ডেস্টিনেশনে।
ঝিলিমিলি: পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার রানিবাঁধ অঞ্চলের একটি শান্ত প্রকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা পর্যটনস্থল। রয়েছে শাল, মহুয়া, শিমুলের জঙ্গল। পাশাপাশি আঁকাবাঁকা বনপথ, ছোটো পাহড় আর জলাশয়। এইখানে আপনারা দেখতে পারবেন ঝিলিমিলি বারো মাইলে জঙ্গল, সুতান লেক, তালবেড়িয়া ড্যাম ও লেক, সুতান ওয়াচ টাওয়ার। ঝিলিমিলি এবং এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চল মূলত সাঁওতাল, মুণ্ডা আদিবাসী সম্প্রদায়ের বাসস্থান। বাঁকুড়া স্টেশনে নেমে বাস অথবা গাড়িতে করে পৌঁছে যান এই ডেস্টিনেশনে।
হেনরি আইল্যান্ড: পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বকখালির কাছে অবস্থিত একটি অত্যন্ত শান্ত, নিরিবিলি এবং মনোরম দ্বীপ। ঘন ম্যানগ্রোভ অরণ্য, শান্ত সমুদ্র সৈকত এবং লক্ষ লক্ষ লাল কাঁকড়ার উপস্থিতি এই দ্বীপটিকে একটি আদর্শ উইকএন্ড গন্তব্য করে তুলেছে। ব্রিটিশ শাসনামলে হেনরি নামে একজন সাহেবের নামানুসারেই এই দ্বীপের নামকরণ করা হয়। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মৎস্য উন্নয়ন নিগম একটি বড় প্রকল্প এই এলাকা। এইখানে আপনারা দেখতে পারবেন কিরণ বিচ, লাল কাঁকড়ার রাজত্ব, ম্যানগ্রোভ অরণ্য ও বাঁশের সেতু, ওয়াচ টাওয়ার, ভেড়ি ও মাছ চাষ। নামখানা স্টেশনে নেমে বাস অথবা গাড়ি করে পৌঁছে যান এই পর্যটনকেন্দ্রে। তাহলে দেরি না করে ঝটপট করে ঘুরে আসুন এই সুন্দর সুন্দর ডেস্টিনেশনগুলিতে।



