গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা রাজ্যে। এর মধ্যে কয়েক দিনের জন্য স্বস্তি দিতে পারে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি অঞ্চল। পাহাড় নিয়ে মানুষের মনে আলাদাই উত্তেজনা। সমতলে উত্তাপ বাড়লেই ব্যাগ গুছিয়ে পাহাড়ের উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে পড়া মানুষের চিরকালের স্বভাব। কিন্তু পাহাড়েও কি আদৌ কি শান্তি পাচ্ছে মানুষ? গরমের থেকে বাঁচতে হাজার হাজার মানুষের ভিড় জমছে সেখানে। পা ফেলার জায়গাটুকুও থাকছে না সেখানে। সাধারণত দার্জিলিং-গ্যাংটকে বাকি পর্যটকদের ভিড়েই গা ভাসায় মানুষ। কিন্তু আপনি কি জানেন এই পাহাড়েই লুকিয়ে আছে এমনকিছু অফবিট জায়গা যেখানে মানুষের ভিড় নেই বললেই চলে। আর শান্তি আনলিমিটেড। আজ রইল এই রকমই কয়েকটি জায়গার হদিশ।
সিটং: 'কমলা লেবুর গ্রাম'। সাধারণত এই নামেই পরিচিত এই পাহাড়ি ছোট্ট গ্রামটি। এখানে এলে চোখে পড়বে একাধিক কমলালেবু বাগান। আর ছবির মতো সুন্দর চারিদিক পাহাড় ঘেরা একটি গ্রাম। তবে সাধারণত শীতকালে এই কমলালেবু বেশি চোখে পড়ে। কিন্তু সমতলের ভরা গ্রীষ্মে এখানকার মনোরম আবহাওয়া পর্যটকদের বিশেষ আকর্ষণ করে।
ঋষিখোলা: একদম পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিম সীমান্তে অবস্থিত এই ঋষিখোলা। যারা পাহাড়-নদীর এক অপূর্ব মেলবন্ধন উপভোগ করতে চান তাঁদের জন্য এই জায়গাটিই হয়ে উঠতে পারে সেরা ডেস্টিনেশন। নদীর ধারে ক্যাম্পিং করার জন্য উপযুক্ত জায়গা এটি।
দাওয়াইপানি: দার্জিলিং থেকে কিছুটা দূরেই অবস্থিত এই পাহাড়ি গ্রাম। একদম শান্ত এই গ্রাম। কোলাহল থেকে একদম ভিন্ন। এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার একটি অসাধারণ দৃশ্য দেখা যায় যা পাহাড় প্রেমীদের কাছে অত্যন্ত প্রিয়। নিরিবিলি পরিবেশে হিমালয়ের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য আদর্শ জায়গা এটি।
গোর্খে: যাঁরা ট্র্যাকিং করতে ভালোবাসে তাঁদের জন্য এই জায়গাটি খুবই ভালো। দার্জিলিং জেলার অফবিট ট্রেকিং গন্তব্যগুলির মধ্যে গোর্খে অন্যতম। শ্রীখোলা-রামমাম-গোর্খে ট্রেকপথ জুড়ে চোখে পড়বে রডোডেনড্রন, পাইন এবং ওক গাছের সারি। পথ চলতে চলতে শোনা যাবে নানা পাহাড়ি পাখির ডাক। নিরিবিলি রামমাম গ্রাম পেরিয়ে পৌঁছনো যায় সিকিম সীমান্ত সংলগ্ন গোর্খেতে। পাহাড়ি নদীর কলকল ধ্বনি আর প্রকৃতির নিস্তব্ধতা মিলিয়ে গোর্খে যেন শান্তির এক ঠিকানা। এখানে থাকার জন্য রয়েছে কয়েকটি আরামদায়ক হোমস্টে।
চটকপুর: কুয়াশা ঘেরা একটি পাহাড়ি গ্রাম এই চটকপুর। দূষণহীন এই ছোট্ট পাহাড়ি গ্রামে মাত্র ১৮টি পরিবারের বাস, জনসংখ্যাও ১০০-র কম। এনজেপি থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই গ্রাম প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে স্বর্গসম। চারপাশের সবুজ পাহাড়, নির্মল বাতাস আর নিরিবিলি পরিবেশ শহুরে ব্যস্ততা থেকে মুক্তির আদর্শ ঠিকানা। সেপ্টেম্বর থেকে জুন বছরের এই দীর্ঘ সময়জুড়েই ঘুরে আসতে পারেন চটকপুরে।
রামপুরিয়া: দার্জিলিং শহর থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে পাহাড়ের কোলে লুকিয়ে রয়েছে ছোট্ট গ্রাম রামপুরিয়া। নিরিবিলি পরিবেশ, সবুজে মোড়া পাহাড় আর নির্মল প্রকৃতি এই গ্রামের প্রধান আকর্ষণ। যারা ভিড় এড়িয়ে কিছুটা শান্ত সময় কাটাতে চান এবং গ্রামের সরল জীবনযাত্রার সঙ্গে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান, তাঁদের জন্য রামপুরিয়া হতে পারে আদর্শ গন্তব্য।



