২০২৬ সালে জোড়া সপ্তমী কিংবা ২০২৭ সালের দুর্গাপুজোয় জোড়া অষ্টমী নয়, ২০২৮ সালে গোটা দুর্গাপুজোই হবে দু’বার।
এবছর অর্থাৎ ২০২৬-এ জোড়া সপ্তমীতেই জনস্রোত দেখা গিয়েছিল রাস্তায়। ২০২৮ সালেও সেই প্ল্যানেই বাঙালি। সমাজ মাধ্যমে খবর ছড়াতেই উৎসবের আগে উৎসাহ তুঙ্গে।
তবে এই দু’বার পুজো কিংবা জোড়া সপ্তমী অথবা জোড়া অষ্টমীর কারণ কী? কোনো অশনি সংকেত? বড় বিপর্যয় আসছে না তো?
না। আসলে সাধারণত পুজো হয় এই দুই নিয়মেই, একটি সূর্য সিদ্ধান্ত অনুসারে। আবার বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত অনুযায়ীও পুজো হয়ে থাকে।
আগামী বছরে (২০২৭ সাল) সূর্য সিদ্ধান্ত অনুসারে দু’দিন অষ্টমী আবার বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নবমী দু’দিন।
তবে একেবারে চমক রয়েছে ২০২৮ সালের পুজোয়। সেই বছর বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মতে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে দুর্গাপুজো হবে। অন্যদিকে সূর্য সিদ্ধান্ত মেনে দুর্গাপুজো হবে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে।
বাংলায় মূলত এই দুটি মতেই পুজো হয়ে থাকে। যে রীতি মেনেই বেলুড় মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন থেকে শুরু করে বিভিন্ন বনেদি বাড়ি এবং সার্বজনীন পুজোও করা হয়।
সাধারণত বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মতে পুজো হয় বেলুড় মঠ, ভারত সেবাশ্রম সংঘের মতো মঠ, মন্দির ইত্যাদি সংস্থাগুলিতে। অর্থাৎ ২০২৮ সালে তাদের পুজো হবে সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে।
এছাড়াও সর্বজনীন পুজো হয় সূর্য সিদ্ধান্ত মেনেই। অর্থাৎ যা কিনা ২০২৮ সালে পুজো হবে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়। সূর্য সিদ্ধান্তের মতে সেবছরে ১৭ থেকে ২০ অক্টোবরের মধ্যে পালিত হবে দুর্গাপুজো।
১৫ দিনের ব্যবধানে দু’বার পালিত হবে বাংলার সবচেয়ে বড়ো উৎসব, দুর্গাপুজো। এই পুজোয় কোনো নিয়মেই ভুল নেই। দুটিই শাস্ত্রসম্মত। পুজোর রীতি মেনেই পুজো করা হয়ে থাকে। ভক্তরা চাইলেই দু’বার অঞ্জলীও দিতে পারবেন।
এর আগেও একই ঘটনা ঘটেছিল। সালটা ১৯৮০। সেবছরেও একবার নয়, দু’বার দুর্গাপুজো হয়। সেবার দুই পুজোর মধ্যে ব্যবধান ছিল ১ মাসের। তবে এই ঘটনায় তুমুল চর্চা এখন সমাজ মাধ্যমে।