কলম্বো: নিছক অংশগ্রহণ নয়, চলতি টি-২০ বিশ্বকাপে ছোটো দলগুলি রীতিমতো বেগ দিচ্ছে ফেভারিটদের। শুক্রবার কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে জিম্বাবোয়ের কাছে অস্ট্রেলিয়ার ২৩ রানে হার তারই প্রকৃষ্ট উদাহরণ। এর আগে ২০০৭ সালে টি-২০ বিশ্বকাপে ক্যাঙারু বাহিনীকে বশ মানিয়ে চমকে দিয়েছিল জিম্বাবোয়ে। এদিনও সিকান্দার রাজারা দাপটেই জিতলেন। জমিয়ে দিলেন সুপার এইটে ওঠার লড়াই। ‘বি’ গ্রুপের পাঁচটি দলই দু’টি করে ম্যাচ খেলেছে। শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবোয়ের পয়েন্ট চার। কিন্তু নেট রান রেটে এগিয়ে থাকায় শীর্ষে দ্বীপরাষ্ট্র। অস্ট্রেলিয়া দু’পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে। সব দলেরই দু’টি করে ম্যাচ বাকি। তাই শুধু জেতা নয়, নেট রান রেটের অঙ্কও মাথায় থাকতে হবে। শেষ পর্যন্ত কোন দু’টি দল সুপার এইটের টিকিট হাসিল করে, সেটাই দেখার!
অস্ট্রেলিয়া টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং নেয়। মূলত প্রতিপক্ষকে মেপে নেওয়াই ছিল ট্রাভিস হেডদের লক্ষ্য। চোট জর্জরিত অজি শিবিরের মনোবল এমনিতেই তলানিতে। ম্যাচেও আগাগোড়াই ব্যাকফুটে ছিল তারা। জিম্বাবোয়ে প্রথমে ব্যাট করে তোলে ২ উইকেটে ১৬৯। ওপেনার ব্রায়ান বেনেট ৬৪ রানে অপরাজিত থাকেন। মারুমানির সংগ্রহ ৩৫। রায়ান বার্ল ৩০ বলে করেন ৩৫। রাজা ১৩ বলে যোগ করেন ২৫ রান। প্যাট কামিন্স, জস হ্যাজলউডদের অনুপস্থিতি টের পাওয়া গেল অজিদের বোলিংয়ে। তবুও আশা করা হয়েছিল, বোলারদের ব্যর্থতা ঢাকা পড়বে ট্রাভিসদের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে।
কিন্তু তা হয়নি। বরং ফুটে উঠেছে চরম ব্যাটিং দীনতা। একটা সময় অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ছিল ৪ উইকেটে ২৯। জস ইংলিশ (৮), ট্রাভিস হেড (১৭), ক্যামেরন গ্রিন (০), টিম ডেভিড (০) একে একে ফিরে যান। একমাত্র ম্যাট রেনশ কুম্ভ হয়ে গড় রক্ষার মরিয়া চেষ্টা করেন। তাঁর সংগ্রহ ৪৪ বলে ৬৫। ম্যাক্সওলের সঙ্গে জুটি বেঁধে খাদের কিনারা থেকে দলকে অনেকটাই টেনে নিয়ে যান তিনি। তাঁরা যোগ করেন ৭৭ রান। তখন মনে হয়েছিল, কষ্টার্জিত জয় নিয়েই মাঠ ছাড়বে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু তা হয়নি। রায়ান বার্লের বলে ম্যাক্সওয়েল (৩১) আউট হন। শেষ পাঁচ ওভারে অজিদের দরকার ছিল ৫৬। কিন্তু চোট পাওয়া স্টোইনিস (৬) ব্যর্থ। বাউন্ডারি লাইনে বাজপাখির মতো ঝাঁপিয়ে ডোয়ারসুইশের ক্যাচ ধরে ম্যাচের মোড় ঘোরান ইভানস। ১৯তম ওভারে রেনশ আউট হতেই অস্ট্রেলিয়ার জয়ের আশা শেষ হয়ে যায়। তিন বল বাকি থাকতেই ক্রিকেট দুনিয়াকে নান্দনিক জয় উপহার দেয় জিম্বাবোয়ে।