


অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণনগর: ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নির্দল প্রার্থী জেবের শেখকেই চাপড়া বিধানসভায় টিকিট দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। অন্যদিকে চাপড়া বিধানসভার তিনবারের বিধায়ক রুকবানুর রহমানকে পাঠানো হয়েছে পার্শ্ববর্তী সংখ্যালঘু অধ্যুষিত পলাশীপাড়া বিধানসভায়। এই দুই নেতার আসন বদলই নদীয়ার রাজনীতিতে আপাতত চর্চার বিষয়। রাজনৈতিক মহলের দাবি, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের এই মাস্টারস্ট্রোক দুই আসনেই তৃণমূলকে এগিয়ে রাখবে।কারণ নদীয়া জেলায় জেবের শেখ এবং রুকবানুর রহমানের দ্বন্দ্বের কথা সর্বজনবিদিত। সেইসঙ্গে চাপড়া বিধানসভার প্রার্থী ঘোষণা হতেই পুরনো বিবাদ মিটিয়ে একসঙ্গেই দেখা গিয়েছে তৃণমূলের ব্লক সভাপতি সুকদেব ব্রহ্ম এবং জেবের শেখকে।
উল্লেখ নদীয়া জেলার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত চাপড়া এবং পলাশীপাড়া দুই বিধানসভাই তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত। গত লোকসভা নির্বাচনে চাপড়া বিধানসভায় প্রায় ৫৬ হাজার এবং পলাশীপাড়া বিধানসভায় প্রায় ৩৫ হাজার ভোটে তৃণমূল এগিয়েছিল।
চাপড়া বিধানসভা থেকে পরপর তিনবার তৃণমূলের টিকিটে বিধায়ক হয়েছিলেন রুকবানুর রহমান। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, সম্প্রতি নানা কারণে দলের অন্দরে বিধায়ককে নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। শীর্ষ নেতৃত্বের কাছেও সেই রিপোর্ট পৌঁছয়। তাই ‘সহজ’ আসনে নির্বাচনী লড়াই কঠিন হওয়ার আশঙ্কা করছিল ঘাসফুল শিবির। কারণ ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে চাপড়া থেকে টিকিটের দাবি করেছিলেন তৎকালীন ব্লক সভাপতি জেবের শেখ। কিন্তু দল টিকিট না দেওয়ায় তিনি নির্দল প্রার্থী হন। তারপর দল থেকে জেবের শেখকে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু একুশের নির্বাচনী লড়াইয়ে চাপড়া বিধানসভায় নির্দল প্রার্থী হিসেবে জেবের শেখ বেশ অস্বস্তিতে ফেলেছিল তৃণমূলকে। ফল বেরোনোর পর দেখা যায়, জেবের শেখ মাত্র ১২ হাজার ভোটে পরাজিত হন। তারপর দীর্ঘ সময় দলের বাইরে ছিলেন তিনি। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের সময় ফের তৃণমূল দলে জেবের শেখের প্রত্যাবর্তন ঘটে। লোকসভায় চাপড়া থেকে তৃণমূলের ব্যাপক লিডের পিছনে জেবের শেখের বড়ো ভূমিকা ছিল বলেই মনে করে রাজনৈতিক মহল। যা ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনেও চাপড়ায় টিকিট দেওয়া নিয়ে ভাবায় দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে। শেষপর্যন্ত বহিষ্কৃত জেবের শেখকেই চাপড়ায় প্রার্থী করে তৃণমূল। মঙ্গলবার বিকেলে প্রার্থী ঘোষণার পর, রাতেই পুরোনো দ্বন্দ্ব মিটিয়ে চাপড়ার ব্লক সভাপতি সুকদেব ব্রহ্ম দেখা করেন জেবের শেখের সঙ্গে। জেবের শেখ স্বীকার করেন, ২০২১ সালে তিনি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সেটা ভুল ছিল। তাঁর কথায়, দলে ফেরার পর আমি আনুগত্য প্রকাশ করেছি। রানাঘাটের উপনির্বাচনও করিয়েছি। দলের উপর ভরসা ছিল। দল আমাকে প্রার্থী করেছে। আগামী দিনে এই আসন ব্যাপক মার্জিনে জয়ী হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর হাত শক্ত করব। আমার নাম ঘোষণা হওয়ার পরেই ব্লক নেতৃত্ব আমার সঙ্গে দেখা করেছে। তারা আমার পাশে আছে। সকলকে নিয়েই আমি চলব।
অন্যদিকে ব্লক সভাপতি সুকদেব ব্রহ্ম বলেন, আমরা দলের কর্মী। দল যাঁকে প্রার্থী করবে তাঁর হয়ে ভোট করানোটাই আমাদের কাজ। আমার সঙ্গে প্রার্থীর কোনোদিন শত্রুতা ছিল না। একটা মানসিক দূরত্ব ছিল। সেটা মিটে গিয়েছে।
অন্যদিকে পলাশীপাড়া বিধানসভায় তৃণমূলের প্রার্থীপদের দাবিদার ছিল অনেকেই। কারণ দুর্নীতির অভিযোগে বিদ্ধ প্রাক্তন বিধায়ককে পুনরায় টিকিট দেওয়া হবে কিনা,তা নিয়ে জল্পনা চলছিল দলের অন্দরেই। অভিজ্ঞতার নিরিখেই পলাশীপাড়া বিধানসভায় নিরপেক্ষ সংখ্যালঘু মুখকেই প্রার্থী করার লক্ষ্য ছিল ঘাসফুল শিবিরের। যার জন্যই বেছে নেওয়া হয় তিনবারের বিধায়ক রুকবানুর রহমানকে। তিনি বলেন, দলের সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত। দল আমাকে নতুন দায়িত্ব দিয়েছে। সবাইকে নিয়ে চলে পলাশীপাড়া আসনে পুনরায় জোড়াফুল ফোটানোই আমাদের লক্ষ্য।