Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

৮০ লক্ষের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকা শুরু, যুবসাথীর অনুদান নিয়ে ধরনা মঞ্চ থেকে চমক মমতার

রবিবার আন্তর্জাতিক নারী দিবস। সেই উপলক্ষ্যে রীতিমতো আগাম ‘সারপ্রাইজ গিফট’ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

৮০ লক্ষের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকা শুরু, যুবসাথীর অনুদান নিয়ে ধরনা মঞ্চ থেকে চমক মমতার
  • ৮ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রবিবার আন্তর্জাতিক নারী দিবস। সেই উপলক্ষ্যে রীতিমতো আগাম ‘সারপ্রাইজ গিফট’ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধরনা মঞ্চ থেকেই সকলকে চমকে দিয়ে ঘোষণা করলেন—এদিন থেকেই বাংলার যুবসাথী প্রকল্পের টাকা পাঠানো হবে। আর সেই ঘোষণামাত্র কাজ চালু! কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় ৮০ লক্ষ উপভোক্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দেড় হাজার টাকা করে সরকারি অনুদান জমা পড়তে শুরু করে।

Advertisement

গত ফেব্রুয়ারি মাসে রাজ্য বিধানসভায় পাশ হয়েছে অন্তর্বর্তী বাজেট। সেখানেই ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি মাধ্যমিক পাশ বেকার যুবক-যুবতিদের জন্য এই যুবসাথী প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়। এর অধীনে প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেবে সরকার। তবে পাঁচ বছরের জন্য। বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী প্রথমে প্রকল্পটি চালু হওয়ার কথা ছিল আগামী ১৫ আগস্ট থেকে। পরবর্তীকালে নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলন করে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, ১ এপ্রিল থেকেই টাকা যাবে বেকার যুবক-যুবতিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। সেই অনুযায়ী কাজ এগিয়েছিল নবান্ন। এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্তির জন্য গত ১৫ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ‘স্বনির্ভর বাংলা’ শিবির চলে। পাশাপাশি অনলাইনেও জমা নেওয়া হয় আবেদন। সেই পর্ব শেষের আট দিনের মাথায় আবারও চমক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ঘোষণা করলেন, ‘১ এপ্রিল নয়, আজ থেকেই যুবসাথীর টাকা পাঠানো শুরু হচ্ছে।’ সঙ্গেসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর নামে জয়ধ্বনি-স্লোগানে ফেটে পড়ে ধরনা মঞ্চ সহ গোটা মেট্রো চ্যানেল। কারণ, নির্ধারিত সময়ের ২৪ দিন আগেই যুবসাথী প্রকল্পের টাকা দেওয়া শুরু হল। আশপাশ থেকেও ধন্যবাদ জানিয়ে বহু সাধারণ মানুষকে বলতে শোনা যায়, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু কথাই রাখেন না, সময়ের আগেই কথা রাখেন।’ মুখ্যমন্ত্রী এদিন আরও জানিয়েছেন, যুবসাথী প্রকল্পের সুবিধা পেতে প্রায় ৯০ লক্ষ-১ কোটি আবেদন জমা পড়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, প্রায় ৮০ লক্ষ আবেদনকারীর নাম ইতিমধ্যে চলে এসেছে উপভোক্তা তালিকায়। তাঁদের টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গিয়েছে। এদিনই যুবসাথী প্রকল্পের অনুদান পাওয়ার মেসেজের স্ক্রিনশট সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বহু যুবক-যুবতি। 
যুবসাথী প্রকল্পকে ‘বেকার ভাতা’ হিসাবে দাগিয়ে রাজ্য সরকারকে কটাক্ষ করেছিল বিরোধী শিবির। তাঁদের যুক্তি ছিল, ভাতা না দিয়ে রাজ্যের উচিত চাকরির সুযোগ তৈরি করা। শনিবার এদিন ধরনা মঞ্চ থেকে সেই কটাক্ষেরও জবাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সাফ জানিয়েছেন, যে সব ছেলেমেয়েরা চাকরি পাওয়ার জন্য বা স্বনির্ভর হওয়ার লক্ষ্যে পড়াশোনা করছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়াতেই এই প্রকল্প। এরাজ্যে বেকারত্বের হার কমেছে প্রায় ৪০ শতাংশ, যা প্রমাণ করছে বাংলায় ছেলেমেয়েদের চাকরির অভাব হয় না। কোথায় কোথায় চাকরির সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং হচ্ছে, তার বিস্তারিত খতিয়ানও এদিন তুলে ধরেন মমতা। উদাহরণ দেন রাজ্যের সিলিকন ভ্যালিতে আইটি হাব, দেউচা পাচামিতে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কোল ব্লক, শালবনিতে ১,৬০০ মেগা ওয়াটার পাওয়ার প্লান্ট সহ একাধিক প্রকল্পের। এর পাশাপাশি এদিন ক্ষেতমজুরদের দুই কিস্তিতে বছরে চার হাজার টাকা দেওয়ার প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ