নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: ‘কোচবিহার কি আর আগের মতো নিরাপদ নেই? কাদের মদতে এই বাড়বাড়ন্ত? জরুরি ১০০ নম্বরে ফোন করলে রিং হয়েও কিছুক্ষণ পর সুইচড অফ বলছে! ফোন লাগলেও সাহায্য করা হয়নি। সাধারণ মানুষ কোথায় সাহায্য পাবে?’ এই প্রশ্ন তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় রবিবার রাতের এক ঘটনা পোস্ট (সত্যতা যাচাই করেনি বর্তমান) করেছেন কোচবিহারের রূপনারায়ণ রোডের বাসিন্দা মহুল কর। ১০০ নম্বরে ডায়াল করেও পুলিসের সহযোগিতা মেলেনি বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করা হয় ওই পোস্টে। ১৮ জুন রাতে শিলিগুড়ির চম্পাসারি মোড়ে এটিএম লুটের সময় এক তরুণী একই ভাবে ১০০ নম্বরে ডায়াল করে কোনও সাহায্য পাননি। কোচবিহারে কি তারই পুনরাবৃত্তি? জরুরি নম্বর থাকা সত্বেও বিপদে পড়া নাগরিকরা কার্যত অসহায় বলে অভিযোগ উঠছে।
রবিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় কোচবিহারের ওই ব্যক্তি লিখেছেন, ওই রাতে তিনি, তাঁর সহধর্মিণী এবং আরও কয়েকজন শিলিগুড়ি থেকে একটি অনুষ্ঠান সেরে বাসে ফিরছিলেন। কোম্পানির ভাড়া করা বাসটি রাতে শহরের বিভিন্ন জায়গায় শিলিগুড়ি ফেরতদের নামিয়ে দিচ্ছিল। সেই সময় শহরের সংহতি মোড় এলাকায় কয়েকজন যুবক বাইকে পিছু ধাওয়া করে এসে বাসটি আটকে ছবি তোলা শুরু করে। সেসব দেখে আতঙ্কিত যাত্রীরা পুলিসের সাহায্য চাইতে জরুরি ১০০ নম্বরে ডায়াল করেন। কিন্তু পুলিস ফোন তুললেও চটজলদি কোনও সাহায্যই করেনি। এমনই পোস্টে অভিযোগ করা হয়েছে। এই পোস্টের পর শহরের বহু মানুষ সেখানে মন্তব্য করেছেন। তাঁরাও একই ভাবে পুলিসের উদাসীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই ব্যক্তি বা ওই বাসের যাত্রীরা পুলিসকে নতুন করে মৌখিক বা লিখিত অভিযোগ না জানালেও এই ঘটনার পর তাঁরা যথেষ্টই ক্ষিপ্ত এবং আতঙ্কিত।
মহুল কর বলেন, আমার স্ত্রী একটি কোম্পানির কোচবিহারের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর। সেই কোম্পানির একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আমরা শিলিগুড়ি গিয়েছিলাম। কোচবিহারের আরও কিছু মানুষ ছিলেন। অনেকেই মহিলা। কিছু যুবক বাস আটকে দিলে আমরা ১০০ নম্বরে ডায়াল করে যোগাযোগ করলেও আখেরে কোনও সাহায্য পাইনি। পরে ওই এলাকার এক পরিচিতকে ফোন করলে তিনি এসে পরিস্থিতি সামাল দেন। আমরা রাতের কোচবিহার শহরে নিরাপত্তার অভাব বোধ করেছি। পুলিসে লিখিত অভিযোগের বিষয়ে আমরা চিন্তাভাবনা করছি। কারণ, আজ যেটা আমাদের সঙ্গে হয়েছে, সেটা অন্যের সঙ্গেও হতে পারে।
কোচবিহারের পুলিস সুপার দ্যুতিমান ভট্টাচার্য বলেন, ১০০ ডায়ালের খাতা রয়েছে। নোট করা হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় কারও কোনও বক্তব্যের ভিত্তিতে কিছু বলার নেই। তবে ১০০ ডায়াল নিয়ে অভিযোগ ভিত্তিহীন। তাঁরা পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। ১০০ ডায়াল ২৪ ঘণ্টা চলে। অভিযোগ থাকলে আমাদের জানান।