Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কথায় কথায় হাতে অস্ত্র তুলে নিচ্ছে তরুণরা, আতঙ্ক বাড়ছে মালদহে

দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আব্দুল শাহিদের বুকে গুলি করার ঘটনায় বুধবার রাত পর্যন্ত অধরা মূল অভিযুক্ত নাসিরুদ্দিন আহমেদ ওরফে রাজ।

কথায় কথায় হাতে অস্ত্র তুলে নিচ্ছে তরুণরা, আতঙ্ক বাড়ছে মালদহে
  • ২১ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মালদহ: দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আব্দুল শাহিদের বুকে গুলি করার ঘটনায় বুধবার রাত পর্যন্ত অধরা মূল অভিযুক্ত নাসিরুদ্দিন আহমেদ ওরফে রাজ। তার খোঁজে ব্যাপক তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিস। ইতিমধ্যে ওই অভিযুক্তের পরিচিত কয়েকজনকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে বলে পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি, গুলিকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হয়েছে কিনা, তা নিয়ে মুখ খোলেননি জেলা পুলিসের পদস্থ আধিকারিকরা। তবে, ওই আগ্নেয়াস্ত্রটি বেআইনি বলে নিশ্চিত তাঁরা। কোথা থেকে অভিযুক্তের হাতে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র এসেছে, সেসব খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে।

Advertisement

এদিকে যেভাবে অন্ধকার জগতে ঢুকে পড়া তরুণ প্রজন্মের একাংশের হাতে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র পৌঁছে যাচ্ছে, প্রমাদ গুনছে মালদহের নাগরিক মহল। বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্রের দেদার সরবরাহ বন্ধ করা না গেলে কেউই নিরাপদ নন বলে আশঙ্কা অনেকের। 
অন্যদিকে, কলকাতায় হাসপাতালে ভর্তি থাকা শাহিদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে এখনও উদ্বেগ কাটেনি পরিবারের সদস্যদের। বাবা তাহির শেখের বক্তব্য, যতক্ষণ না ছেলে সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরছে, চরম দুশ্চিন্তায় পুরো পরিবার। 
যে পঞ্চানন্দপুর এলাকায় গুলি চালানোর ঘটনাটি ঘটেছে, তার খুব কাছেই ঝাড়খণ্ডের সঙ্গে আন্তঃরাজ্য জলসীমা রয়েছে। নৌকা করে পাগলা নদী পার হয়ে সহজেই ঝাড়খণ্ডে পৌঁছে যাওয়া যায়। গুলিকাণ্ডে ব্যবহৃত ওই বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র আন্তঃরাজ্য সীমানা পেরিয়েই এসেছিল কিনা, খতিয়ে দেখছে পুলিস।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা পুলিসের এক পদস্থ কর্তা বলেন, এর আগে বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে প্রচুর বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র বাজেয়াপ্ত করেছি। বেআইনি অস্ত্রের কারবারিরা সাধারণত আন্তঃরাজ্য সীমানাগুলিকে ব্যবহার করে থাকে। ওই সীমান্তগুলিতে পুলিসের নজরদারিও থাকে। এই নজরদারি আরও বাড়ানো হবে।
এ বছরের শুরুতেই খুন হয়ে যান ইংলিশবাজারের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা দুলাল সরকার। তাঁকে খুনের ক্ষেত্রেও বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে কালিয়াচক ও বৈষ্ণবনগর থানা এলাকা থেকে একাধিক বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস।
এখন নাগরিক মহলের আশঙ্কা, পুলিসের নজরদারির ফাঁক গলে বেশকিছু আগ্নেয়াস্ত্র পৌঁছে গিয়েছে ছোটখাটো দুষ্কৃতীদের হাতেও। এলাকায় সামান্য বচসা বা মনোমালিন্য হলেও নির্দ্বিধায় তারা গুলি চালিয়ে দিচ্ছে। 
মোথাবাড়ির বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, যে ঘটনা ঘটেছে, তাতে একজন নাগরিক হিসেবে উদ্বিগ্ন। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ধৈর্য খুবই কম। তাড়াতাড়ি মেজাজ হারিয়ে ফেলে গুলি পর্যন্ত চালিয়ে দিচ্ছে। বিষয়টি সকলের জন্যই উদ্বেগজনক।
মালদহের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ তথা বঙ্গরত্ন শক্তিপদ পাত্রর কথায়, অল্প বয়সীদের মধ্যে একটা অবাধ্যতার প্রবণতা থাকেই। কিন্তু সেটা এখন আগ্নেয়াস্ত্রের যথেচ্ছ ব্যবহারে পৌঁছে গেলে গভীর চিন্তার বিষয়। এটা সাধারণ মানুষ শুধু নয়, নেতানেত্রীদের নিরাপত্তার পক্ষেও আতঙ্কের।
ইংলিশবাজার পুরসভার এক কাউন্সিলার বলেন, সাধারণ মানুষের প্রয়োজনে রাতবিরেতে বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়। যেভাবে অল্পবয়সী কিছু ছেলের হাতে মারাত্মক সব আগ্নেয়াস্ত্র পৌঁছে যাচ্ছে, তাতে ভয় তো হচ্ছেই।
মালদহ দক্ষিণের জেলা বিজেপির সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, রাজ্যজুড়ে, বিশেষত মালদহের মতো সীমান্তবর্তী জেলায় বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্রের রমরমা কারবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে এরাজ্যে সাধারণ মানুষ থেকে নেতামন্ত্রী, কেউই নিরাপদ নন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ