


সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: নবদ্বীপ বিধানসভার বিজেপি প্রার্থীর গাড়ি ঘোরানোকে কেন্দ্র করে দুই গাড়ির চালকের মধ্যে তীব্র বচসা। অভিযোগ, এর জেরেই বিজেপি প্রার্থীর গাড়ির চালককে গালিগালাজ করা হয়। তার প্রতিবাদ করায় চালককে মারধরও করা হয়। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় নবদ্বীপের ব্যাদড়া পাড়া রেলগেট গুমটির ঘটনায় এই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। ওই রাতে নবদ্বীপের বিজেপি প্রার্থী শ্রুতিশেখর গোস্বামী অজ্ঞাতপরিচয় দু’জন সহ মোট তিন জনের নামে তাঁর গাড়ির চালককে মারধরের অভিযোগ করেন থানায়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার সকালে নবদ্বীপ রেলগেট সংলগ্ন এলাকা থেকে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে ধৃত দেবব্রত পাল ওরফে আকাশ। ধৃতের বাড়ি নাদনঘাট থানার সমুদ্রগড়ে। বিজেপি প্রার্থীর অভিযোগ, শুক্রবার আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ বচসা বাধে।
নবদ্বীপ ব্যাদড়া পাড়া মোড়ের মাথায় নির্বাচনি প্রচারের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত ব্যক্তিগত গাড়ির চালকের সঙ্গে একযোগে গাড়ি ঘোরানোর সময় অন্য একটি চারচাকা গাড়ির দুই অপরিচিত ব্যক্তি বিজেপি প্রার্থীর গাড়ির চালককে উদ্দেশ্য করে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। প্রতিবাদ করলে আচমকাই ওই দু’জন গাড়ি থেকে নেমে প্রার্থীর গাড়ির চালককে গলা টিপে মারতে শুরু করে। প্রার্থী শ্রুতিশেখর জানান, আমার কার্যকর্তারা ওই দু’জনকে ধরে ফেলেন। পরবর্তী সময়ে সোনু শেখ নামের এক ব্যক্তি দু’জনকে নিয়ে এসে ওই দুষ্কৃতীদের পালাতে সাহায্য করে। স্থানীয় কাউন্সিলার নিতাই চন্দ্র দাস বলেন, ব্যাদড়া পাড়া গুমটিতে রেলগেট পড়ে গেলে প্রচুর যানজট হয়। কিন্তু ওখানে বিজেপি প্রার্থী তাঁর গাড়িটি রেখে প্রচারে গিয়েছিলেন। সেই সময় তাঁর গাড়ির চালক গাড়ি ঘোরাতে যান। স্টেশনের দিক থেকে আরেকটি গাড়ি ঘটনাস্থলে চলে আসে। তখন দু’টি গাড়ির চালকের মধ্যে বচসা হয়। সেই সময় ওই রাস্তা দিয়ে স্থানীয় তৃণমূল কর্মী সোনু শেখ যাচ্ছিলেন।
তিনি দু’পক্ষের মধ্যে গন্ডগোল থামাতে যান। তৃণমূলের কাউন্সিলারের দাবি, যেহেতু সোনু তৃণমূল করেন সেজন্যই তাঁকে চক্রান্ত করে এই ঘটনায় জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। শনিবার ধৃতকে নবদ্বীপ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে তোলা হলে বিচারক অভিযুক্ত দেবব্রতকে দু’দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেন।