ওয়াশিংটন ও দুবাই: ইরান পরিস্থতি সামলাতে এমনিতেই লেজেগোবরে দশা। এবার কি শ্যাম ও কুল— দুই হাতছাড়া হবে আমেরিকার! কারণ, পশ্চিম এশিয়া সংকটের জেরে ‘চিরসখা’ ইজরায়েলের সম্পর্কে ফাটল চওড়া হওয়ার আশঙ্কা চরমে। বেসামাল ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে জড়ালেন ইজলায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। দুই রাষ্ট্রনেতার এবারের বিতণ্ডা সব সীমা পার করে গিয়েছে। সরকারি সূত্র উদ্ধৃত করে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবি, ফোনের ওপার থেকে নেতানিয়াহুকে ‘উন্মাদ’ ও ‘অকৃতজ্ঞ’ বলে ভর্ৎসনা করেছেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এও বলেছেন, ‘আপনাকে সবাই ঘৃণা করে!’
ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর এই তীব্র বিবাদের কারণ কী? রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যে শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে আমেরিকা, সেখানে তেহরান শর্ত দিয়েছে, লেবাননে হিজবুল্লার বিরুদ্ধে হামলাও বন্ধ করতে হবে ইজরায়েলকে। আর এই শর্ত ঘিরেই যত গণ্ডগোল। ইরান জানিয়ে দিয়েছে, লেবাননে ইজরায়েলের হামলা বন্ধ না হলে শান্তি আলোচনা বাতিল করবে তারা। রিপোর্ট অনুযায়ী, সেই শর্ত মেনে নেওয়ার জন্য নেতানিয়াহুকে বাগে আনতে গিয়েই মেজাজ হারান ট্রাম্প। ইজরায়েল প্রেসিডেন্টকে ফোনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আপনি উন্মাদ। আমি পাশে না থাকলে আপনাকে জেলে থাকতে হবে। আপনাকে রক্ষা করতে গিয়ে আমি মুশকিলে পড়ছি। এখন সবাই আপনাকে ঘৃণা করে। ইজরায়েলকেও এই কারণে সবাই ঘৃণা করে।’ তীব্র ভর্ৎসনার সুরেই ইজরায়েলের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে নেতানিয়াহুকে বারবার চ্যালেঞ্জও জানান ট্রাম্প। উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় চলার মধ্যে অবশ্য তিনি একথা স্বীকার করেন যে, হিজবুল্লাও গোলাগুলি চালাচ্ছে। আত্মরক্ষার অধিকার ইজরায়েলের রয়েছে। কিন্তু একইসঙ্গে ট্রাম্পের তোপ, স্বয়ং নেতানিয়াহু একতরফাভাবে সংঘাত বাড়িয়েছেন। সরকারি সূত্র উদ্ধৃত করে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবি, লেবাননে নিরীহ সাধারণ মানুষের প্রাণহানি নিয়ে ট্রাম্প উদ্বিগ্ন। হিজবুল্লা কামান্ডারদের নিশানা বানানোর নামে লেবাননে যে লাগামহীন ধ্বংসলীলা চালাচ্ছে ইজরায়েল, তা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আপত্তি তুলেছেন। সেই কারণেই লেবাননের রাজধানী বেইরুটে হিজবুল্লার ডেরাগুলিতে হামলা বন্ধ রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এক ইজরায়েলি আধিকারিকও।
উত্তপ্ত এই ফোনালাপের পর ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা প্রচণ্ড গতিতে জারি থাকবে। আর নেতানিয়াহু বলেন, হিজবুল্লা যদি পুনরায় হামলা চালায় তাহলে আবারও বেইরুটকে নিশানা বানানো হবে। তবে দক্ষিণ লেবাননে ইজয়ায়েলি সামরিক অভিযান থামছে না। মার্কিন আধিকারিকদের দাবি, ট্রাম্পের চাপের মুখেই আপাতত বেইরুটে হামলা বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছেন নেতানিয়াহু।