নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বারুইপুরের পর এবার কলকাতার তিলজলা! এক তরুণীকে ফাঁকা বাড়িতে আটকে রেখে, গত ১৫ দিন ধরে বার বার ধর্ষণ করার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে তিলজলা থানার পুলিশ। ধৃতের নাম শেখ সাজন। তাকে বীরেশ গুহ এবং দিলখুশা স্ট্রিটের সংযোগস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, ওই তরুণীকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার টোপ দিয়ে মেদিনীপুর থেকে কলকাতায় আনা হয়েছিল। এখানে আসার পর তাঁকে ফাঁকা বাড়িতে আটকে রেখে ক্রমাগত নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। মঙ্গলবারই মহিলা ও শিশুঘটিত অপারাধের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি কার্যকর করার কথা স্মরণ করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরদিনই খাস কলকাতা শহরের বুকে এই ধর্ষণের ঘটনায় অস্বস্তিতে লালবাজারের শীর্ষকর্তারা। এনিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে কলকাতা পুলিশের ডিসি (এসইডি) সৈকত ঘোষকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘এমন কোনো ঘটনার কথা তাঁর জানা নেই।’ কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) কুণাল আগরওয়াল এবং পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দাকে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠানো হলেও রাত পর্যন্ত উত্তর আসেনি। তিলজলা থানায় দায়ের করা এক লিখিত অভিযোগে নির্যাতিতা তরুণী জানিয়েছেন, গত ১৫ দিন ধরে তাঁকে আটকে রাখা হয়েছিল। একাধিকবার ধর্ষণ করেছে ওই ব্যক্তি। মারধরও করা হয়। ধর্ষণের কথা কাউকে জানালে, প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিল ওই ব্যক্তি। কলকাতা পুলিশের এক সূত্র জানাচ্ছে, নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে তিলজলা থানার পুলিশ বুধবার তদন্ত শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় নির্যাতিতা তরুণীর মেডিকেল পরীক্ষা করানো হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাঁর পোশাক সহ নানা সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। সাজনকে বুধবার আলিপুর আদালতে হাজির করা হয়। তাকে ৭ দিনের পুলিশ হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



