সংবাদদাতা, বালুরঘাট: বন্ধুর সঙ্গে স্ত্রীকে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখেছিলেন স্বামী। তাঁদের অবৈধ সম্পর্ক জানাজানি হতেই এলাকা ছাড়া বন্ধু ও স্ত্রী। এমন ঘটনায় ভেঙে পড়ে মানসিক অবসাদে অবশেষে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হলেন স্বামী। উদ্ধার হয়েছে সুইসাইড নোটও। সেই নোটে বন্ধুর সঙ্গে স্ত্রীর অবৈধ সম্পর্কের কথা স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। ফলে স্ত্রী ও সেই বন্ধুর নামে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করল যুবকের পরিবার। এমন ঘটনায় রীতিমতো শোরগোল পড়েছে বালুরঘাট শহর লাগোয়া খিদিরপুর হালদার পাড়ায়।
পুলিস সূত্রে খবর, মৃত যুবকের বাড়ি হালদার পাড়ায়। ওই যুবকের স্ত্রীর সঙ্গে বন্ধুর অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর আগেও একবার বন্ধুর সঙ্গে স্ত্রীর অবৈধ সম্পর্ক জেনে ফেলেছিল যুবকটি। এনিয়ে ব্যাপক ঝামেলাও হয়েছিল। বিষয়টি সেবার মিটমাট হয়ে যায়। অবৈধ সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসবে বলেও স্বামীকে কথা দিয়েছিল স্ত্রী। কালীপুজোর দিন পাড়াতেই পুজোর জোগাড় করতে গিয়েছিল স্ত্রী। ওই বধূ উপোস করেছিল বলে পরিবার সূত্রে খবর। হঠাৎ পাড়ার মণ্ডপ থেকে স্ত্রী উধাও হয়ে যায়। এরপরেই স্বামী তাকে খুঁজতে খুঁজতে ওই বন্ধুর বাড়িতে যান। সেই বাড়িতে ছাদে উঠতেই বন্ধুর সঙ্গে স্ত্রীকে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখতে পান। এই ঘটনায় যুবক ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিবাদ জানালে বন্ধু ও স্ত্রী দু’জনেই এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন যুবকটি। তাঁকে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করেন।
বুধবার রাতে ওই যুবক গলায় ফাঁস লাগিয়ে নিজের বাড়িতেই আত্মহত্যা করেন। ওই ঘটনায় শোরগোল পড়ে এলাকায়। পুলিশ সূত্রে খবর, রাতেই অভিযুক্ত স্ত্রী এবং বন্ধুর নামে বালুরঘাট থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা দায়ের করে পরিবার। ওই দু’জন বর্তমানে পলাতক রয়েছে। এবিষয়ে বালুরঘাটের ডিএসপি (সদর) বিক্রম প্রসাদ বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। মৃতের ভাই বলেন, অনেকদিন ধরেই ওই অবৈধ সম্পর্ক চলছিল।
কালীপুজোর রাতে অমন ঘটনা নিজের চোখে দেখে একেবারেই ভেঙে পড়েছিল দাদা। আমরা অনেক বুঝিয়েছিলাম। তবুও শেষ রক্ষা হলো না। দাদার মৃত্যুর জন্য ওরা দায়ী। আমরা এনিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। অভিযুক্তদের শাস্তি চাই।