


সংবাদদাতা, লালবাগ: বন্ধুকে নিয়ে হবু স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে এসেই ছেলেধরা সন্দেহে আক্রান্ত হয়েছেন রঘুনাথগঞ্জের যুবক। শুক্রবার রাতে লালগোলার শীতেশনগরের শিরোপাড়ায় ছেলেধরা গুজবের জেরে উত্তেজিত জনতা তাঁদের চারচাকা গাড়িটি ভাঙচুর করে পুড়িয়ে দেয়। যদিও স্থানীয় কয়েকজনের তৎপরতায় ওই যুবকরা রক্ষা পেয়েছেন। ঘটনার পর লালগোলায় গুজব রুখতে বার্তা দিয়েছে পুলিশ।
ভগবানগোলার এসডিপিও বিমান হালদার বলেন, রঘুনাথগঞ্জ থানার ইসলামপুরের ওই যুবক বন্ধুকে নিয়ে হবু স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। স্থানীয় কিছু মানুষ তাঁদের ছেলেধরা বলে সন্দেহ করে মারমুখী হয়ে ওঠে। তাঁদের গাড়িটি সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দেওয়া হয়। রাতেই দুই যুবকের পরিবারকে থানায় ডাকা হয়। পরে দু’জনকেই পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। গুজব নিয়ে সচেতন থাকার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি আমরা ঘটনার তদন্তে নেমেছি।
লালগোলা থানার পুলিশ জানিয়েছে, রঘুনাথগঞ্জের ইসলামপুরের বাসিন্দা আবদুল হাসানের সঙ্গে লালগোলার শীতেশনগরের এক যুবতীর বিয়ে ঠিক হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে ওই যুবক তাঁর বন্ধু মহম্মদ সরফরাজ ইসলামকে নিয়ে চারচাকা গাড়িতে শীতেশনগরের শিরোপাড়ায় আসেন। সেখানে হবু স্ত্রীর আসার অপেক্ষায় ছিলেন। সেসময় স্থানীয় কিছু শিশুর সঙ্গে তাঁরা আলাপ জমান। বিষয়টি এলাকার লোকজনের নজরে আসতেই তাঁরা অপরিচিত দুই যুবককে ছেলেধরা ভেবে নেন। এরপর এলাকার এক কিশোর গ্রামবাসীদের জানায়, কালো রংয়ের ওই চারচাকা গাড়িতে সে দুই শিশুকে অজ্ঞান অবস্থায় শুয়ে থাকতে দেখেছে। এরপরই কয়েকশো গ্রামবাসী গাড়িটি ঘিরে ফেলে। দুই যুবককে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। যদিও সেই মুহূর্তে স্থানীয় কয়েকজনই ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। তাঁরা দুই যুবককে মারমুখী জনতার কাছ থেকে সরিয়ে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যান। উত্তেজিত জনতা ওই গাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে ভগবানগোলার এসডিপিও বিমান হালদার এবং লালগোলা থানার ওসির নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বহরমপুর থেকেও পুলিশ আসে। পুলিশ আধিকারিকদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।